১০০০ থেকে সোজা ১৫০০ টাকা! আজ থেকেই ষাটোর্ধ্বদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকছে বড় অংকের টাকা

বাংলার ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিক, বিধবা এবং দিব্যাঙ্গদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির খবর। প্রতিশ্রুতি মতো আজ থেকেই বর্ধিত হারে বার্ধক্য, বিধবা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতা পাঠানো শুরু করল রাজ্য সরকার। আগে যেখানে এই ভাতা বাবদ ১,০০০ টাকা করে দেওয়া হতো, তা বাড়িয়ে এবার ১,৫০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে। রাজ্যের প্রায় ৬০ লক্ষ উপভোক্তা এই বর্ধিত ভাতার সুবিধা পেতে চলেছেন।
নবান্ন সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, মোট ৬০ লক্ষ উপভোক্তার মধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ কেন্দ্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত জাতীয় সামাজিক সহায়তা প্রকল্পের আওতাভুক্ত। এই প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, ৬০ থেকে ৭৯ বছর বয়সি উপভোক্তাদের জন্য কেন্দ্রের বরাদ্দ মাত্র ২০০ টাকা এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে কেন্দ্র দেয় ৫০০ টাকা। এতদিন এর সঙ্গে রাজ্যের নিজস্ব অর্থ যোগ করে মোট ১,০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হতো। এবার সেই অঙ্ক বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাকি ৪০ লক্ষ উপভোক্তাকে সমাজকল্যাণ দফতর পরিচালিত রাজ্যের নিজস্ব প্রকল্পের মাধ্যমে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এই ৪০ লক্ষ উপভোক্তার ভাতার সম্পূর্ণ খরচ রাজ্য সরকার নিজেই বহন করছে। উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যাতে কোনও রকম ঝামেলা ছাড়াই নির্বিঘ্নে এই টাকা পৌঁছে যায়, তার ওপর বিশেষ নজর রাখছে নবান্ন। আজ, ৭ সেপ্টেম্বর থেকেই ভাতা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, ফলে খুব শীঘ্রই প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে এই বাড়তি টাকা জমা হওয়ার কথা।
ভোটের প্রতিশ্রুতি ও ভাতার অঙ্ক নিয়ে জল্পনা
এদিকে, নির্বাচনী প্রচারের সময় রাজ্যে বার্ধক্য ভাতা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। সেই হিসেবে আগের ১,০০০ টাকার ভাতা দ্বিগুণ হয়ে ২,০০০ টাকা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে ভাতার পরিমাণ ১,৫০০ টাকা করায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশাসনিক মহলের ব্যাখ্যা, রাজ্য সরকারের তরফে ধাপে ধাপে এই ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী আপাতত ৫০০ টাকা বাড়িয়ে তা ১,৫০০ টাকা করা হলো। এমনকি নতুন অর্থবর্ষ শুরু হলে এই ভাতার পরিমাণ আরও বাড়িয়ে ২,০০০ টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। সব মিলিয়ে পুজোর আগে এই আর্থিক বৃদ্ধিতে উপকৃত হবেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষ।