NSE-র আইপিও-তে এখনই শেয়ার বেচছে না LIC! বিশাল সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী কারণ?

ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ বা এনএসই-র (NSE) প্রস্তাবিত আইপিও-তে (IPO) নিজেদের ১০.৭২ শতাংশ শেয়ার এখনই বিক্রি করার কোনো প্রয়োজনীয়তা দেখছে না লাইফ ইনস্যুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া বা এলআইসি (LIC)। তবে আগামী দিনে শেয়ার বিক্রি করা হবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে আইপিও-র সময়কার সঠিক মূল্যায়ন এবং বাজারের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। সম্প্রতি এমনটাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন এলআইসি-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও আর দোরাইস্বামী।

দোরাইস্বামী জানিয়েছেন, এলআইসি প্রথমে এনএসই-র আইপিও-তে নিজেদের কিছুটা অংশ শেয়ার বাজারে ছাড়ার কথা ভেবেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। এনএসই ইতিমধ্যেই আইপিও-র উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় অংশীদারি অফলোড করার শর্তগুলি পূরণ করে ফেলেছে। ফলে এই মুহূর্তে এলআইসির পক্ষ থেকে বিক্রেতা হিসেবে অংশ নেওয়ার কোনো তাৎক্ষণিক বাধ্যবাধকতা বা তাড়া নেই।

তবে আইপিও চালুর সময়ে বাজারের গতিপ্রকৃতি এবং এনএসই-র আর্থিক মূল্যায়ন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এলআইসি। দোরাইস্বামীর কথায়, যেহেতু এলআইসি দেশের একটি অন্যতম প্রধান ও বিশাল আর্থিক প্রতিষ্ঠান, তাই কোটি কোটি পলিসিহোল্ডারের কষ্টার্জিত অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ ও বিচক্ষণতার সঙ্গে বিনিয়োগ করাই তাদের সর্বকালের প্রধান লক্ষ্য।

শুধু এনএসই-র আইপিওই নয়, দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি ব্যাঙ্ক এইচডিএফসি ব্যাঙ্কে (HDFC Bank) নিজেদের অংশীদারিত্ব আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি এলআইসি প্রধান। দোরাইস্বামী জানিয়েছেন, যে সমস্ত সংস্থায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত সর্বোচ্চ শেয়ার সীমার কোটায় এলআইসি এখনও পৌঁছয়নি, সেখানে নতুন করে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর প্রশস্ত সুযোগ রয়েছে।

তবে কোনো নির্দিষ্ট সংস্থায় শেয়ারের পরিমাণ বাড়ানো হবে কি না, তা ঢেলে সাজানো নীতি অনুযায়ী প্রতিটি ক্ষেত্র আলাদাভাবে বিবেচনা করে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারের সঠিক মূল্যায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের সম্ভাবনা কতটা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত পদক্ষেপ করবে বিমা সংস্থাটি। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন খাতের ৩৫০টিরও বেশি সংস্থায় এলআইসির বড় অংকের ইক্যুইটি বিনিয়োগ রয়েছে।

স্বাস্থ্যবিমা এবং প্রযুক্তি খাতের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলিতে কৌশলগত বিনিয়োগের পথ খোলা রাখলেও, এই মুহূর্তে কোনো চুক্তি নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে নারাজ এলআইসি। এর আগে মিশ্র বা কম্পোজিট লাইসেন্স চালুর সম্ভাবনাকে সামনে রেখে স্বাস্থ্যবিমা ব্যবসায় বিনিয়োগের জোরালো আগ্রহ দেখিয়েছিল তারা। তবে সেই আইনি পরিবর্তন এখনও কার্যকর না হওয়ায় এই মুহূর্তে স্বাস্থ্যবিমা সংস্থায় দ্রুত বিনিয়োগের তাগিদ কিছুটা কমেছে। তা সত্ত্বেও ভবিষ্যতে দীর্ঘ মেয়াদে বড় ধরনের আর্থিক মূল্য তৈরি করতে পারে—এমন কোনো লাভজনক সুযোগ সামনে এলে এলআইসি তা গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করবে।

সব মিলিয়ে, আগামী দিনে দেশের জীবনবিমা ক্ষেত্রে নিজেদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতৃত্ব বজায় রেখে পলিসিহোল্ডার ও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী মূল্য তৈরি করাই এখন এলআইসির মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে সংস্থাটিকে দেশের ‘সবচেয়ে পছন্দের বিমা সংস্থা’ হিসেবে আরও উঁচুতে তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর দেশের এই প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী সংস্থাটি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *