কোটিপতি শশুরের শরীরে ২৬টি কোপ! সুপারি কিলার দিয়ে ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটালেন খোদ পুত্রবধূ

উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক প্রতিষ্ঠিত কোটিপতি ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল তাঁরই পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। গত শনিবার কল্যাণপুর এলাকার একটি সুরক্ষিত অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ৬৩ বছরের ব্যবসায়ী বিনীত বিনোচার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ২৬ বার কোপানোর চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত পুত্রবধূ শালু বিনোচাকে আটক করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বাড়ির এক পরিচারকসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত বিনীত বিনোচা বীরহানা রোডে তাঁর ছেলে সুব্রতের সঙ্গে মিলে একটি ওষুধের ব্যবসা চালাতেন। ওই ব্যবসার বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ ৪০ কোটি টাকারও বেশি ছিল। তবে পুত্রবধূ শালুর অভিযোগ, বিপুল এই সম্পত্তির ওপর তাঁদের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। কর্মীদের মতো তাঁদেরও প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের হাতখরচ দেওয়া হতো এবং বাড়তি টাকার জন্য সবসময় শ্বশুরের কাছে হাত পাততে হতো। এই অর্থনৈতিক পরাধীনতা ও বঞ্চনা থেকেই তিনি মুক্তির পথ খুঁজছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ।
ঘটনার দিন অর্থাৎ শনিবার রাতে বাড়িতে একাই ছিলেন বিনীত। তাঁর স্ত্রী পুনিতা গাজিয়াবাদে একটি কাজে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, সুব্রত ও তাঁর স্ত্রী শালু পুত্রকে নিয়ে একটি পার্টিতে যোগ দিতে বাইরে যান। পরিকল্পিতভাবেই সেই সুযোগকে কাজে লাগোনো হয়। অ্যাপার্টমেন্টের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পেরেছে, শনিবার মধ্যরাতে বাড়ির পরিচারক বিশাল গৌতম ও রাজ কিশোর নামের এক ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে। প্রথমে নিরাপত্তা রক্ষী বাধা দিলেও, শালুর ফোন পেয়ে তাদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ পরিচারক বিশাল গৌতম ও সুপারি কিলার রাজ কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। তাদের জেরা করেই পুত্রবধূ শালুর নাম সামনে আসে এবং পুলিশ তাঁকে আটক করে। শালুর দেওয়া বিবৃতির সঙ্গে তাঁর কল ডিটেলস রেকর্ড এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ডে পুত্রবধূর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা এবং অপরাধের পেছনের গভীর ষড়যন্ত্রের জাল উন্মোচন করতে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে কানপুর পুলিশ।