“রেড রোডের কার্নিভাল বাতিল!”-পুজো নিয়ে বড় আয়োজনের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী

সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ সালের এই প্রশাসনিক বৈঠকে পুজো আয়োজকদের জন্য একগুচ্ছ নতুন নিয়ম, অনুদান এবং সাংস্কৃতিক কর্মসূচির রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে। এদিনের বৈঠকে বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি আর্থিক সাহায্য না নেওয়ার জন্য বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, অতীতে ২০১৮ সাল থেকে শুরু হওয়া পুজো অনুদান ব্যবস্থা বজায় থাকলেও, যারা আর্থিকভাবে সক্ষম, তারা যেন সরকারের এই অর্থনৈতিক সাহায্য না নেন। তবে ছোট এবং মাঝারি পুজো কমিটিগুলির কথা মাথায় রেখে ১ লক্ষ টাকা করে অনুদান এবং বিদ্যুতের বিলে ১০০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। এর জন্য ছোট পুজোগুলিকে সংশ্লিষ্ট থানায় আবেদন করতে বলা হয়েছে।
পুজো নিয়ে রাজ্য সরকারের প্রধান নির্দেশিকাগুলি:
-
উদ্বোধনে কড়াকড়ি: দেবীপক্ষ বা মাতৃপক্ষ শুরু হওয়ার আগে পুজোর কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অনুমতি দেওয়া হবে না।
-
রাস্তা বন্ধ নিষিদ্ধ: সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে রাজ্য বা জাতীয় সড়ক এবং কলকাতার ১৩টি প্রধান রাস্তা ব্লক করে কোনো পুজো মণ্ডপ করা যাবে না।
-
ডিজে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: পুজোর দিনগুলিতে এবং প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রায় উচ্চস্বরে ডিজে বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
-
বিসর্জনের সময়সীমা: চলতি বছর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো ২৫ অক্টোবর হওয়ায়, তার আগের দিন অর্থাৎ ২৪ অক্টোবরের মধ্যেই সমস্ত প্রতিমা নিরঞ্জন শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-
অষ্টমীতে মদ বিক্রি বন্ধ: মহাঅষ্টমীর দিন রাজ্যের সমস্ত মদের দোকান এবং পানশালা বা বার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-
ঐতিহ্য রক্ষা: প্রতিমা, মণ্ডপসজ্জা বা থিম ফুটিয়ে তোলার সময় এমন কিছু করা যাবে না যা সনাতন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ক্ষুণ্ণ করে।
কার্নিভাল বাতিল ও বিকল্প বড় কর্মসূচি
এ বছর কলকাতার রেড রোডে প্রচলিত দুর্গাপুজো কার্নিভাল না করার বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের পর্যটন ও তথ্য সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে এবার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে হতে চলেছে সবথেকে বড় কর্মসূচি। সেখান থেকেই শুরু হবে উৎসবের সূচনা, যেখানে চার ঘণ্টার জমকালো ড্রোন শো এবং আতসবাজির প্রদর্শনী থাকবে। পাশাপাশি শহরজুড়ে বৃহৎ রোড শো, দিঘায় মহালরোত্তর অনুষ্ঠান, রাজ্যের ছয়টি শহরে দু’দিন ব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কলকাতার চারটি ঘাটে বিশেষ সাজসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিনের বৈঠক শেষে সরকারের একটি ত্রুটিপূর্ণ বিজ্ঞাপন নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সকালে প্রকাশিত ওই বিজ্ঞাপনে কিছু ভুলত্রুটি থাকার কারণে তিনি নিজে ক্ষমাপ্রার্থী এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বিজ্ঞাপন সংস্থাকে ইতিমধ্যে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।