রান্নাঘরে একাই ছিলেন বৌদি, পিছন থেকে এসে কুড়ুলে কোপ! রক্তে ভাসল রান্নাঘর

স্বামী বাড়িতে ছিলেন না, দুই ছেলেও বাইরে খেলায় ব্যস্ত ছিল। সেই সুযোগে রান্নাঘরে কাজ করছিলেন এক তরুণী গৃহবধূ। কিন্তু সেই রান্নার ঘরই যে তাঁর শেষ ঠিকানা হয়ে যাবে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কেউ। অভিযোগ, পিছন দিক থেকে অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে সোজা গলায় কুড়ুল দিয়ে কোপ মেরে বৌদিকে নৃশংসভাবে খুন করেছে তাঁর নিজের দেওর। এই রোমহর্ষক ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের রামনগর বাইসা এলাকায়। নিহত মহিলার নাম অমৃতা ওঁরাও (২৭)। ঘটনার পর অভিযুক্ত দেওর পাঁচু রায়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে এই খুনের নেপথ্যে পারিবারিক সম্পর্কের টানাপড়েন ও পরকীয়া সংক্রান্ত সন্দেহ রয়েছে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন বাড়িতে স্বামী না থাকায় এবং দুই ছেলে বাইরে খেলায় মগ্ন থাকায় রান্নাঘরে একা একাই কাজ করছিলেন অমৃতা। সেই সুযোগেই অভিযুক্ত পাঁচু রায় পিছন থেকে এসে তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং কুড়ুল দিয়ে উপর্যুপরি কোপাতে শুরু করে। অমৃতার আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা তড়িঘড়ি ছুটে এলেও ততক্ষণে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েছেন ওই গৃহবধূ। প্রতিবেশীরাই সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। এদিকে ঘটনার পরেই চম্পট দেয় অভিযুক্ত পাঁচু। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে শেষমেশ অভিযুক্তকে পাকড়াও করে।

প্রাথমিক তদন্ত এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে তদন্তকারীদের অনুমান, নিহত অমৃতার সঙ্গে তাঁর দেওর পাঁচুর একটি গোপন সম্পর্ক বা পরকীয়ার টানাপড়েন ছিল। কিন্তু গত কিছুদিন ধরেই অমৃতা সেই সম্পর্ক থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেছিলেন এবং পাঁচুকে এড়িয়ে চলছিলেন। আর তাতেই পাঁচুর মনে সন্দেহ দানা বাঁধে যে, বৌদি হয়তো অন্য কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। সেই ক্ষোভ ও অন্ধ আক্রোশ থেকেই এই জঘন্য কাণ্ড ঘটিয়েছে ওই যুবক।

পুলিশ অমৃতার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর রহস্য বা পারিবারিক শত্রুতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সব দিক থেকে তদন্ত শুরু করেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *