রেকর্ড পরিমাণ কয়লা তুলেও বিশাল ধাক্কা! ইসিএলের ১,২৫৭ কোটি টাকার লোকসানের নেপথ্যে কোন রহস্য?

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রেকর্ড পরিমাণ কয়লা উৎপাদন করেছে ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ECL)। কিন্তু আনন্দের বিষয় হলো, উৎপাদনের এই গ্রাফ উর্ধ্বমুখী থাকলেও হিসাবের খাতায় লাভের মুখ দেখার বদলে উল্টে প্রায় ১,২৫৭ কোটি টাকার বিপুল লোকসানের মুখে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাটি। আর এই অদ্ভুত বৈপরীত্য ঘিরেই এখন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিল্পমহলে।

রেকর্ড উৎপাদন বনাম বড় লোকসান

চলতি অর্থবর্ষে ইসিএলের কয়লা উত্তোলনের পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে ৫২ মিলিয়ান টন। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে উৎপাদন এবং গ্রাহকদের কাছে কয়লা পাঠানোর (ডেসপ্যাচ) ব্যবধানে। উৎপাদিত মোট কয়লার একটি বড় অংশ নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র বা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে না পারায় তৈরি হয়েছে বড় ফারাক। তবে শুধু ডেসপ্যাচ নয়, এর পেছনে রয়েছে আরও এক বিরাট আর্থিক গলদ।

লোকসানের মূল কাঁটা: উৎপাদন খরচ

কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক খোলামুখ খনিতে এক টন কয়লা তুলতে যেখানে খরচ মাত্র ৩০০ টাকা, সেখানে বহু পুরনো ভূগর্ভস্থ খনিতে সেই একই পরিমাণ কয়লা তুলতে খরচ গিয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার টাকায়! রানিগঞ্জ কয়লাক্ষেত্রের আড়াই শতাব্দীর পুরনো ইতিহাস এবং প্রাচীন ভূগর্ভস্থ কাঠামোর কারণে উৎপাদন খরচ আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংস্থার ৭৬টি সক্রিয় খনির মধ্যে ৫৬টিরও বেশি খনি বর্তমানে লোকসানে চলছে।

খনি বন্ধের সিদ্ধান্ত ও কর্মসংস্থানের প্রশ্ন

পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে ১১টি মারাত্মক লোকসানি খনি বন্ধ বা ‘স্ট্র্যাটেজিক ক্লোজার’-এর পরিকল্পনা নিয়েছে ইসিএল। তবে খনি বন্ধ হলেও সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের চাকরি হারানোর কোনো আশঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ; তাদের অন্য খনিতে পুনর্বিন্যাস করা হবে। একদিকে খরচ কমানো এবং অন্যদিকে ২০৩৪-৩৫ সালের মধ্যে বার্ষিক উৎপাদন ৮১ মিলিয়ান টনে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এখন মরিয়া হয়ে এগোচ্ছে ইসিএল ম্যানেজমেন্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *