যাদবপুরে রাতের অন্ধকারে তুলকালাম! ইটের আঘাতে মুখ ফাটল নেতার, নেপথ্যে কি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র?

গভীর রাতে রাস্তায় এক যুগলের অশান্তি থামাতে গিয়ে চরম হেনস্থা ও রক্তাক্ত হওয়ার মতো ঘটনার সাক্ষী থাকল যাদবপুর। শুক্রবার গভীর রাতে যাদবপুর থানা এলাকার লায়েলকা মাঠ সংলগ্ন অঞ্চলে যুগলের বচসা থামাতে গিয়ে স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দুই বিজেপি কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন বলে খবর।

ঠিক কী ঘটেছিল রাতে?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ঘড়িতে তখন প্রায় আড়াইটে। সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দা তথা বিজেপি কর্মী সৌম্যদীপ সাহা বাড়ি থেকে বাইরে বের হন। তিনি দেখতে পান, রাস্তার মাঝে এক যুগল তীব্র বচসায় জড়িয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতি দেখে সৌম্যদীপ তাঁদের প্রকাশ্য রাস্তায় এভাবে ঝামেলা না করে অন্যত্র চলে যাওয়ার অনুরোধ জানান। অভিযোগ, ওই যুগল তো কথা শোনেননি, উলটে তাঁর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। এরপর মুহূর্তের মধ্যে সেখানে আরও কয়েকজন ছুটে এসে সৌম্যদীপের ওপর চড়াও হয়। হামলাকারীরা আধলা ইট দিয়ে তাঁর মুখে সজোরে আঘাত করলে তাঁর মুখ ফেটে রক্তক্ষ শুরু হয়।

রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সৌম্যদীপ তাঁর সহকর্মীদের খবর দেন। কিছুক্ষণের মধ্যে বিজেপির আরও কয়েকজন কর্মী সেখানে পৌঁছলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এই সংঘর্ষে এক যুব মোর্চা সাধারণ সম্পাদকও গুরুতর জখম হন। পরে জখমদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এই ঘটনার পরেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বিজেপির তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অসামাজিক কার্যকলাপ ও মদের আসর বসে। সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে তাঁদের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। যদিও শাসক দলের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানানো হয়েছে যে, এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই, বরং ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে বিরোধীরা। বর্তমানে যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *