এক ক্লিকেই সোজা জালে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীরা! পাঞ্জাবে সাধারণ মানুষের গোপন তথ্য বিপ্লব ঘটিয়ে দিল।

পাঞ্জাবে মাদকের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের ‘যুদ্ধ নেশাঁ বিরুদ্ধে’ (Yudh Nashean Virudh) অভিযান এক অভাবনীয় মাইলফলক অর্জন করেছে। পুলিশি অ্যাকশনের পাশাপাশি এই লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এক বিরাট বিপ্লব ঘটিয়েছে। এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের পাঠানো প্রায় ৫২ হাজার গোপন খবরের ভিত্তিতে পুলিশ এখনও পর্যন্ত মোট ২৫,৩৩৯ জন মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

হেল্পলাইনের জাদুতে কোণঠাসা মাফিয়ারা

চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে ‘সেফ পাঞ্জাব’ হেল্পলাইন নম্বরের মাধ্যমে পুলিশ প্রায় ৫১,৯৭৯টি গোপন তথ্য বা টিপস পেয়েছে। ডার্টি ড্রাগ নেটওয়ার্কের শিকড় আলগা করতে এই তথ্যগুলি অ্যান্টি-নारকোটিক্স টাস্ক ফোর্স (ANTF)-এর কাছে অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। শুধুমাত্র ছোটখাটো বিক্রেতাই নয়, এর মাধ্যমে ২ কেজির বেশি হিরোইন সহ প্রায় ৬৯৬ জন হেভিওয়েট মাদক পাচারকারীকে পাকড়াও করা হয়েছে।

বিপুল পরিমাণে মাদক ও ক্যাশ বাজেট জব্দ

পাঞ্জাবের ডিজিপি গৌরব যাদব জানিয়েছেন যে, নাগরিকদের এই আস্থার কারণে আগামী দিনে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বহুগুণ বাড়বে। এই মেগা ক্র্যাকডাউনে পুলিশ এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩,৭৫৭ কেজি হিরোইন, ৯৬৪ কেজি আফিম, বড় পরিমাণে গাঁজা, মেথামফেটামিন বা আইস এবং ৬২ লক্ষেরও বেশি ড্রাগ ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি, মাদক বিক্রির অবৈধ উপার্জনের প্রায় ২২ কোটি টাকাও ক্রোক করা হয়েছে।

কড়া ব্যবস্থার পাশাপাশি রিহ্যাব বা চিকিৎসাও

শুধু আইনি কড়াকড়িই নয়, নেশার অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া যুবসমাজকে মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশি মধ্যস্থতায় প্রায় ৪২ হাজারেরও বেশি মানুষকে রিহ্যাব সেন্টারে বা নশা মুক্তি কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং দেড় লক্ষেরও বেশি মানুষকে ওওএটি (OOAT) ক্লিনিকের মাধ্যমে চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে। অপরাধ দমনের পাশাপাশি পুনর্বাসনের এই যৌথ দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমানে গোটা দেশে যথেষ্ট প্রশংসিত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *