বাণিজ্য থেকে প্রতিরক্ষা—দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় মোড়! পোল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে কী বললেন জয়শঙ্কর?

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে এবং বৈশ্বিক নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে বর্তমানে পোল্যান্ড সফরে রয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শুক্রবার ওয়ারশতে পোল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোসওয়াফ সিকোর্স্কির (Radosław Sikorski) সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘যৌথ কর্মপরিকল্পনা ২০২৪-২৮’-এর (Joint Action Plan 2024-28) সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার ওপর বিশেষ জোর

বৈঠক শেষে সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘এক্স’-এ (প্রাক্তন টুইটার) পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মহাকাশ গবেষণা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, এআই (AI), সেমিকন্ডাক্টর, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, নৌপরিবহন, খনি, জ্বালানি এবং জনসমর্থন ও সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়িয়ে তোলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

পাশাপাশি, ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতায় পোল্যান্ডের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) কার্যকর হলে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক নতুন উচ্চতা ছুঁবে বলে আশা প্রকাশ করেন জয়শঙ্কর। এছাড়াও বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা এবং খাদ্য, জ্বালানি ও সার নিরাপত্তার মতো জটিল চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন জয়শঙ্কর

পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং তা প্রশমনে ভারতের ভূমিকা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে এস জয়শঙ্কর অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বন্ধ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, “অফুরন্ত এই যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বা সমাপ্তির পথেই চালিত হওয়া উচিত।”

মস্কো এবং কিয়েভ—উভয় পক্ষের সঙ্গেই ভারতের নিরন্তর যোগাযোগের কথা তুলে ধরে জয়শঙ্কর জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের পর তিনি নিজে মস্কো এবং পরবর্তীতে কিয়েভ সফর করেছেন। দুই দেশের সঙ্গেই বিস্তারিত আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যাতে এমন কিছু গঠনমূলক পরামর্শ বা ধারণা তৈরি করা যায় যা সংঘাতের তীব্রতা কমাতে এবং স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *