ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তিতে মেগা ব্রেকথ্রু! ৫০ হাজার কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ওয়াশিংটনের কড়া বার্তা

আসন্ন জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চলতি বছরের ডিসেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পা রাখতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই মেগা সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় পঁয়ত্রিশটি দেশের রাষ্ট্রনায়করা উপস্থিত থাকলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটিই আন্তর্জাতিক মহলের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে চলেছে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর এক সাক্ষাৎকারে দুই নেতার ব্যক্তিগত উষ্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে এই ইঙ্গিত দিয়েছেন। ২০২০ সালের ভারত সফরের স্মৃতি এখনও ডোনাল্ড চালনার হৃদয়ে তাজা রয়েছে, ফলে আগামী দিনে তাঁর ফের ভারত সফরের জোরালো সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রেও প্রবল আশার আলো দেখিয়েছেন তরুণ এই মার্কিন কূটনীতিক। মার্কিন সুপ্রিমে কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের জেরে চুক্তির শর্তগুলি নতুন করে পর্যালোচনা করা হলেও, দুই দেশই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা যেখানে দশকের পর দশক আটকে থাকে, সেখানে ভারত-মার্কিন আলোচনা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার কোটি ডলার, যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ৫০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছে দেওয়ার মেগা লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন মোদি ও ট্রাম্প। ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ভূয়সী প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত জানান, এই পরিবেশই ভারতকে ওয়াশিংটনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও আকর্ষণীয় অর্থনৈতিক অংশীদার করে তুলেছে। ইতিমধ্যেই মার্কিন দূতাবাসের মধ্যস্থতায় আমেরিকায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের ভারতীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে, অন্যদিকে গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো জায়ান্ট টেক কোম্পানিগুলি ভারতে এআই ও ডেটা সেন্টারে কোটি কোটি ডলার ঢালছে।

প্রতিরক্ষামূলক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক এখন শুধুই সামরিক সরঞ্জাম কেনাবেচায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা কৌশলগত আস্থার এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প, অ্যাপাচে হেলিকপ্টার সরবরাহ এবং নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়ার প্রসঙ্গ টেনে সার্জিও গর স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, আমেরিকা চাইলেই সব দেশকে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তর করে না, তবে ভারতের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন সম্পূর্ণ আস্থাশীল। এই সম্পর্ককে আরও পোক্ত করতে আগামী দিনে দুই দেশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সফর আরও ঘন ঘন হবে। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও অক্টোবরেই ভারত সফরে আসছেন এবং আগামী চার মাসে রাষ্ট্রসংঘ ও জি-২০ উপলক্ষ্যে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর অন্তত তিনবার আমেরিকা সফর করতে পারেন। বিশ্ব রাজনীতির এই জটিল সমীকরণে ভারত-মার্কিন অক্ষ যে আগামী দিনের বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে চালিত করবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Samrat Das
  • Samrat Das

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *