পুজোর ফ্যাশনে বড় চমক! বাংলার তাঁত ও সিল্কের ছোঁয়ায় অভিষেক নাইয়ার ‘আগমনী’ কালেকশন মাতাবে এবার উৎসব

শিউলির গন্ধ, ঢাকের আওয়াজ, কাশফুলের দোলা আর পুজোর নতুন জামার অপেক্ষা—শরতের এই চেনা ছবিগুলোর সঙ্গেই ওপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে বাঙালির নস্টালজিয়া। আর এই নস্টালজিয়াকেই এবার কাপড়, রং আর নান্দনিক নকশার জাদুতে জীবন্ত করে তুলেছেন ডিজাইনার অভিষেক নাইয়া। দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে তাঁর নতুন ফ্যাশন কালেকশন ‘আগমনী’ যেন বাংলার ঐতিহ্য ও শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার এক সুন্দর গল্প।

প্রায় আট মাস ধরে গবেষণা, মোটিফ তৈরি এবং নকশা নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রূপ পেয়েছে এই বিশেষ কালেকশন। অভিষেকের কাছে ডিজাইন মানে কেবল সুন্দর পোশাক তৈরি করা নয়, বরং মানুষ কোন পোশাক পরে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে চায়, সেই ভাবনাই মূল। তাই ‘আগমনী’ ঐতিহ্য, নস্টালজিয়া ও আধুনিক ডিজাইনের এক নিখুঁত মেলবন্ধন।

সিল্কের আভিজাত্য থেকে টাঙ্গাইলের মাটির গন্ধ

এই কালেকশনের শুরু এবং শেষের অংশে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে সিল্ক ও তসর। সিল্কের ধুতি-চাদর এবং ধুতি শাড়িতে যেমন রয়েছে উৎসবের চিরন্তন আভিজাত্য, তেমনই ডিজাইনে ফুটে উঠেছে আধুনিক সমকালীন ভাবনা। পুজোর সন্ধ্যার জাঁকজমকপূর্ণ আবহের জন্য এই অংশটি এককথায় অনবদ্য।

এর পরেই গল্পের মোড় ঘুরে পৌঁছে যায় বাংলার মাটির কাছাকাছি—সুতি আর টাঙ্গাইলের হাতবোনা কাপড়ে। নদিয়ার বাঙালি তাঁতিদের নিপুণ হাতে তৈরি হয়েছে এই পোশাকগুলি। একটিমাত্র শাড়ি বুনতেই যেখানে সাত থেকে আট দিন সময় লেগে যায়, সেখানে প্রতিটি পোশাক কেবল একটি ফ্যাশন স্টেটমেন্ট নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একজন কারিগরের ধৈর্য, সময় এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা সুপ্রাচীন দক্ষতা। টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী বয়নশৈলী নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা করে পুরনো নকশাকে নতুন প্রজন্মের উপযোগী করে সাজিয়েছেন অভিষেক।

শোস্টপার রণজয় ও বিবৃতি, মোটিফে পুজোর আমেজ

‘আগমনী’-র গ্র্যান্ড ফ্যাশন শো-তে শো-স্টপার হিসেবে নজর কেড়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা রণজয় বিষ্ণু এবং অভিনেত্রী বিবৃতি চ্যাটার্জি। দুজনেই এই কালেকশনে নিজেদের স্টাইলের দুর্দান্ত ছাপ রেখেছেন।

পোশাকের নকশাতেও নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পুজোর চেনা আবহ। পদ্ম, শিউলি ও গাঁদা ফুলের মোটিফের সঙ্গে আইভরি, বেইজ, লাল এবং মেরুনের মতো ক্লাসিক রঙের ব্যবহার কালেকশনের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিচিত অথচ আধুনিক—এই দ্বৈততাই ‘আগমনী’-র প্রধান বৈশিষ্ট্য।

এটি কেবল একটি ফ্যাশন কালেকশন নয়, বরং বাংলার স্থানীয় তাঁত ও দেশীয় বস্ত্রশিল্পের প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি করার এক মহৎ প্রয়াস। পরিবেশবান্ধব ও ঐতিহ্যবাহী পোশাককে দৈনন্দিন ফ্যাশনে জায়গা করে দেওয়ার বার্তা দিয়েই পুজোয় ফ্যাশনপ্রেমীদের মন জয় করতে আসছে অভিষেক নাইয়ার ‘আগমনী’।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *