একই দিনে প্রথমে ধর্ষণ, পরে জঙ্গল নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ! জঙ্গলমহলে আদিবাসী বধূর ওপর অকথ্য নির্যাতনে কাঁপছে রাজ্য

একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনায় নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জঙ্গলমহল। বেলপাহাড়িতে আদিবাসী নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় বইছে, ঠিক তখনই লালগড় থেকে আরও এক পৈশাচিক ঘটনার খবর সামনে এল। সেখানে এক আদিবাসী গৃহবধূকে একই দিনে প্রথমে এক ব্যক্তি এবং পরে তার একাধিক বন্ধুর দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশ ছয়জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?

পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ অগস্ট কয়মা এলাকার এক যুবকের সঙ্গে ফোনে পরিচয় ও বন্ধুত্বের সূত্রে লালগড় বাজারে দেখা করতে যান ওই গৃহবধূ। দুপুরে দুজনে একসঙ্গে একটি হোটেলে খাবার খাওয়ার পর বাড়ি ফেরার পথে তাঁদের সঙ্গে দেখা হয় রাথ দলুই নামের এক পরিচিত যুবকের। সে বাইকে করে গৃহবধূকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে কাঁটাপাহাড়ির একটি ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে যায়।

নির্যাতিতার অভিযোগ, সেই ফাঁকা বাড়িতেই তাঁকে প্রথমে ধর্ষণ করে রাথ দলুই। এরপর বিকেলে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সে আরও সময় কাটায় এবং তার পরিচিত আরও কয়েকজন যুবককে সেখানে ডেকে পাঠায়। এরপর ওই গৃহবধূকে কাছের ছোট পেলিয়া জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে পৈশাচিক কায়দায় গণধর্ষণ করে মোট সাতজন যুবক। কাউকে মুখ খুললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় এক যুবক জঙ্গলের মধ্যে তাঁকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরক্ষায় বাড়ি পৌঁছে দেন।

পুলিশি পদক্ষেপ ও জঙ্গলমহলে ক্ষোভ

ঘটনার দীর্ঘ সময় পর গত বৃহস্পতিবার রাতে লালগড় থানায় গিয়ে আটজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই নির্যাতিতা। অভিযোগ পাওয়ার পরই দ্রুত নড়েচড়ে বসে পুলিশ। ধূলাগড় ও অন্যান্য এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত রাথ দলুই সহ মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার তাদের ঝাড়গ্রাম আদালতে পেশ করা হলে বিচারক সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। বাকি দুই অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

অন্য একটি ঘটনায়, বেলপাহাড়ির নাবালিকা নির্যাতনের বিচার ও অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে শুক্রবার শিলদা নিমতলা চকে বিশাল প্রতিবাদ সভা করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জঙ্গলমহলের পরপর দুটি পৈশাচিক ঘটনা ঘিরে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *