‘কাঁদিস না ভাই, মা আসবে!’-নেপালে নিখোঁজ মায়ের অপেক্ষায় কিশোরীর কান্না চেপে রাখার লড়াই

মানসরোবর দর্শনে গিয়ে নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। গত প্রায় ন’দিন ধরে তাঁর কোনো সন্ধান না মেলায় কাঁচরাপাড়ার শুভ্রাংশু রায়ের পরিবারে চলছে চরম উৎকণ্ঠা। মা ছাড়া বাড়িতে দিন কাটছে ছোট দুই শিশুর, আর তাদের সামলাতে গিয়ে এক প্রকার জোর করেই নিজের শৈশব ও কান্না চেপে রাখতে বাধ্য হচ্ছে তেরো-চৌদ্দ বছরের কিশোরী কন্যা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২১ আগস্ট কলকাতার একটি পর্যটন সংস্থার মাধ্যমে একাই নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। কিন্তু গত সপ্তাহের বুধবার সেখানে হড়পা বানের বিপর্যয় ঘটার পর থেকেই তাঁর আর কোনো হদিশ মিলছে না। তাঁর সঙ্গে যাওয়া অন্যান্য পর্যটকদেরও একই অবস্থা। পর্যটন সংস্থার পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি রাজ্য সরকারের তরফ থেকেও সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে শুভ্রাংশু এবং তাঁর দুই সন্তানের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু ঘটনার আট দিন পরেও কোনো ইতিবাচক খবর না মেলায় পরিবারের উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। শুক্রবার শুভ্রাংশু জানান, তিনি নিজে সরকার ও পর্যটন সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে শুভ্রাংশু রায় মূলত জনসমক্ষে সময় দিলেও, তাঁদের পারিবারিক ব্যবসা এবং কল্যাণীর একটি স্কুল ও কাঁচরাপাড়ার একটি পলিক্লিনিক পুরোপুরি পরিচালনা করতেন শর্মিষ্ঠাই। স্ত্রীর হঠাৎ এই নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার জেরে রাজনৈতিক দায়িত্বের পাশাপাশি এখন ব্যবসার দিকটাও একা হাতে সামলাতে হচ্ছে শুভ্রাংশুকে। তবে সবথেকে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বাড়ির অন্দরে। দীর্ঘ দিন মা কাছে না থাকায় অবুঝ ভাই যখন ডুকরে কেঁদে উঠছে, তখন পরিবারের বড় মেয়ে নিজেই চোখের জল আটকে ভাইকে বোঝাচ্ছে যে মা দ্রুত ফিরে আসবে। যদিও দিনের শেষে বাবার কাছে তার একটাই প্রশ্ন, ‘মা কবে আসবে?’ যার কোনো উত্তর জানা নেই কারও কাছেই। শুধু স্ত্রী তথা মায়ের নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন গুণছে গোটা পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *