প্রাক্তন মন্ত্রীকে খুনের সুপারি দিতে ৪০ কোটি এল কোথা থেকে? বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারিতে তদন্তে নামল ইডি!

অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী ওয়াইএস বিবেকানন্দ রেড্ডি হত্যা মামলায় এবার আর্থিক দুর্নীতির উৎস সন্ধানে তদন্তের গতি বহুগুণ বাড়াল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রায় ৪০ কোটি টাকার ‘সুপারি’ বা চুক্তি দেওয়া হয়েছিল বলে এর আগে সিবিআই তদন্তে প্রকাশ্যে এসেছিল। যার মধ্যে চার অভিযুক্তকে অগ্রিম হিসেবে ১ কোটি টাকা করে দেওয়া হয়। এই বিশাল অঙ্কের টাকার উৎস এবং মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখতেই সম্প্রতি হায়দরাবাদে অন্যতম অভিযুক্ত শেখ দস্তাগিরিকে একটানা প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন ইডি আধিকারিকরা।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য: সিবিআই-এর কাছে দেওয়া দস্তাগিরির জবানবন্দি অনুযায়ী, এররা গাঙ্গি রেড্ডি তাঁকে এই হত্যাকাণ্ডে যুক্ত করতে চেয়েছিল এবং খুন সফল হলে জীবন গুছিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এমনকি এই পুরো চক্রান্তের নেপথ্যে ওয়াইএস ভাস্কর রেড্ডি, অবিনাশ রেড্ডি এবং দেবী রেড্ডি শিবশঙ্কর রেড্ডির মতো প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নামও জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। শিবশঙ্কর রেড্ডিই খুনের পর ৪০ কোটি টাকা দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
ইডি-র পরবর্তী পদক্ষেপ: তদন্তকারীরা মূলত জানতে চাইছেন, এই ৪০ কোটি টাকা জোগাড় করার মূল পরিকল্পনা কাদের ছিল, আয়ের উৎস কী ছিল এবং অভিযুক্তদের কাছে অগ্রিম দেওয়া ৪ কোটি টাকা কোন মাধ্যমে হাতবদল হয়েছিল। এর আগে গত মাসে হায়দরাবাদ এবং ওয়াইএসআর কড়াপা জেলার একাধিক প্রভাবশালী অভিযুক্তের বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি, ডিজিটাল ডিভাইস এবং ব্যাঙ্ক লকারের চাবি বাজেয়াপ্ত করেছিল ইডি। দস্তাগিরিকে দীর্ঘ জেরা করে যে সমস্ত তথ্য হাতে এসেছে, তার ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই অন্য অভিযুক্তদেরও মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।