মাত্র ১২০ সেকেন্ডে ৪০০০ পয়েন্ট পতন! শেয়ার বাজারে বড়সড় ‘ফ্ল্যাশ ক্র্যাশ’-এর নেপথ্যে আসলে কী চলছে?

ভারতীয় শেয়ার বাজারে সম্প্রতি এক নজিরবিহীন ও রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে গেছে। বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) সাপ্তাহিক ডেরিভেটিভস এক্সপায়ারির দিন ক্লোজিং অকশন সেশনের (CAS) ঠিক অন্তিম মুহূর্তে বাজারে নেমে আসে বিরাট বিপর্যয়। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে (দুপুর ৩:১৮ থেকে ৩:২০ মিনিট) सेंसेक्सের সূচক হুড়মুড়িয়ে প্রায় ২,১৩৭ পয়েন্ট ভেঙে পড়ে। এর ঠিক পরেই আবার প্রায় ১,৮০০ পয়েন্টের তীব্র রিকভারি দেখা যায়। সব মিলিয়ে পলক ফেলতে না ফেলতেই বাজারের এই ভোলাটিলিটিতে প্রায় ৪,০০০ পয়েন্টের বিরাট দুলুনি বা সুইং রেকর্ড করা হয়েছে।
কেন ঘটল এই আকস্মিক বিপর্যয়? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ৩ আগস্ট থেকে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (SEBI) কর্তৃক চালু করা নতুন ‘ক্লোজিং অকশন সিস্টেম’ (CAS)-এর কিছু বড় ত্রুটি এই ঘটনার জন্য দায়ী। যে নিয়মটি বাজারে স্বচ্ছতা ও সঠিক মূল্য আবিষ্কারের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল, বর্তমানে সেটাই তরলতা বা লিকুইডিটির অভাব এবং ক্যাশ ও ডেরিভেটিভস বাজারের টাইমিংয়ের অমিলের কারণে বড় বিপদ ডেকে আনছে।
-
তরলতার চরম অভাব: সিএএস চলাকালীন অর্ডার বুকে পর্যাপ্ত ক্রেতা বা লিকুইডিটি না থাকায় বড় অঙ্কের সেল অর্ডার আসতেই শেয়ারের দাম এক ধাক্কায় নিচের দিকে নেমে যায়।
-
স্টপ-লসের অনুপস্থিতি: এই প্রক্রিয়ায় স্টপ-লুস এবং আইসবার্গ অর্ডারের মতো সুরক্ষা কবজগুলি কাজ না করায় একতরফা প্যানিক সেলিং শুরু হয়।
-
অপশন প্রিমিয়ামে ধামাকা: সূচকের এই আচমকা পতনের ফলে ডেরিভেটিভস মার্কেটে পুট-অপশনের প্রিমিয়াম নিমেষেই ৪০০ থেকে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত লাফিয়ে ওঠে।
সামগ্রিক এই পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের মনে বড়সড় আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের পরিষ্কার মত, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে সেবি এবং এক্সচেঞ্জগুলিকে অবিলম্বে এই সিএএস (CAS) ফ্রেমওয়ার্ক পুনর্গঠন করতে হবে, নচেৎ স্টক মার্কেটে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি থেকেই যাবে।