Adventure & Rescue Training: পাহাড়ি নদী পারাপার থেকে লাইফ সেভিং ট্রিকস! কেন অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের তীর্থস্থান মানালির এই কেন্দ্র?

পাহাড়-শিখরে আরোহণের রোমাঞ্চ হোক কিংবা আকস্মিক বিপর্যয়ে আর্তের প্রাণ বাঁচানোর শপথ—অদম্য সাহসিকতার এক অনন্য পাঠ দিয়ে চলেছে হিমাচল প্রদেশের বিখ্যাত ‘অটল বিহারী বাজপেয়ী ইন্সটিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যালায়েড স্পোর্টস’ (ABVIMAS)। পশ্চিমবঙ্গের হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের পর ১৯০১ সালে উত্তর ভারতে স্থাপিত এই ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি আজ দেশজুড়ে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী ও উদ্ধারকারী বাহিনীর অন্যতম ভরসাস্থল।

কী কী শেখানো হয় এখানে?

গোটা হিমাচলজুড়ে এই কেন্দ্রের মোট ১০টি শাখা রয়েছে। পর্বতারোহণ ও স্কি ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি এখানে ওয়াটার স্পোর্টস, অ্যারো স্পোর্টস এবং পাহাড়ের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও উদ্ধারকাজের হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শুধু সাধারণ শিক্ষার্থীরাই নন, বিপর্যয় মোকাবিলায় পারদর্শী হতে এখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিতে আসেন স্টেট ডিজাস্টার অ্যান্ড রেসকিউ ফোর্স (SDRF) এবং ন্যাশনাল ডিজাস্টার অ্যান্ড রেসকিউ ফোর্স (NDRF)-এর জওয়ানরাও। এমনকি হিমাচল পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের জন্যও এই প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক।

দূরদূরান্ত থেকে প্রশিক্ষণ নিতে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে ২০০ জনের থাকার উপযোগী আধুনিক ছাত্রাবাসের ব্যবস্থা রয়েছে। মূলত মে, জুন, জুলাই এবং অক্টোবর মাসে প্রশিক্ষণ পর্ব চলে, যেখানে কর্ণাটক ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন।

সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সংগ্রহশালা

এই প্রতিষ্ঠানের মুখ্য প্রশিক্ষক নারায়ণ দত্ত জানান, শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা ও ন্যূনতম মাধ্যমিক যোগ্যতার ভিত্তিতে কোর্স করানো হয়। পাহাড় চড়া বা নদী পারাপারের পাশাপাশি মানুষের সুপ্ত সাহস ও ধৈর্যকে জাগ্রত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এখানে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে সমস্ত কোর্স করানো হয়। এছাড়া এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে একটি আকর্ষণীয় মিউজিয়ামও রয়েছে, যেখানে অতীতে পর্বতারোহণে ব্যবহৃত প্রাচীন সরঞ্জাম থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের সমস্ত পর্বতারোহণের উপকরণ অত্যন্ত যত্নসহকারে সংরক্ষিত রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *