ভারতের কাছে ক্ষতিপূরণ চায়নি নেপাল! বন্যার পরই বড় জল্পনা ওড়ালেন বিদেশমন্ত্রী

নেপালে ভয়াবহ বন্যার জেরে জলবায়ু সংক্রান্ত বিপর্যয় নিয়ে ভারতের কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাওয়ার যে সমস্ত খবর সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা পুরোপুরি অস্বীকার করলেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএনআই-কে (ANI) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জোরালোভাবে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কাঠমান্ডু ভারতের কাছে কখনোই কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা টাকা চায়নি।

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় নেপালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে রাসুয়া বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫৯-এ। এই বিপর্যয়ের পরেই গুঞ্জন ছড়ায় যে নেপাল জলবায়ু পরিবর্তনের দায় চাপিয়ে ভারতের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। তবে সেই সমস্ত জল্পনা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, তিনি নিজে কিংবা বিদেশ মন্ত্রক বা নেপাল সরকারের কেউই ভারত বা অন্য কোনো দেশের কাছে কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেনি। এমনকি চিন বা আমেরিকার কাছেও এমন কোনো দাবি জানানো হয়নি বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

তিনি জানান, নেপালের মূল আবেদন ছিল বিশ্ববাসী যেন এই বিপর্যয়কে শুধুমাত্র একটি আকস্মিক ঘটনা হিসেবে না দেখে, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে এবং হিমালয় অঞ্চলে এর মারাত্মক প্রভাব অনুধাবন করে। হিমালয় অঞ্চলের দেশগুলোর পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মিল রয়েছে উল্লেখ করে তিনি কূটনৈতিক বিতর্কের পথে না হেঁটে যৌথভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, চিন, ভারত এবং নেপাল—তিনটি দেশই একই রকম পরিবেশগত সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাই এই তিন দেশের পাশাপাশি বিশ্ব সম্প্রদায়েরও উচিত নেপালের মতো ছোট দেশগুলোকে রক্ষা করতে একজোট হওয়া।

দুর্যোগের সময় ভারতের তাৎক্ষণিক ভূমিকার গভীর প্রশংসা করে নয়াদিল্লির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী। সংকটজনক পরিস্থিতিতে ভারত যেভাবে ত্রাণের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি। বিপর্যয় মোকাবিলায় ২৬ ও ২৭ আগস্ট একাধিক দফায় বিমান পাঠিয়ে নেপালে প্রায় ৬০ টনের বেশি জরুরি ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত। এর মধ্যে ছিল অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরের সামগ্রী, তাঁবু, কম্বল, হাইজিন কিট, সোলার ল্যাম্প, ডিওয়াটারিং পাম্প, জেনারেটর, রান্নার সরঞ্জাম, জল পরিশোধনের যন্ত্র এবং জীবনদায়ী ওষুধ। পাশাপাশি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ১১ সদস্যের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল ও ফরেনসিক দলও পাঠানো হয়েছে।

নেপালের আর কী কী সাহায্য প্রয়োজন, তা নিয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খানাল। তাঁর মতে, বিপদের দিনে ভারত যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে তা অত্যন্ত ইতিবাচক এবং ভবিষ্যতে নতুন কোনো সহায়তার প্রয়োজন হলে দুই দেশ আলোচনা করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *