স্কুলে গেলেই মুখে কুলুপ আঁটে সন্তান? বাবা-মায়ের এই ছোট্ট ভুলই ডেকে আনছে বড় বিপদ, আজই জানুন!

বাড়িতে সারাক্ষণ বকবক করে মাথা খারাপ করে দেয় সন্তান, অথচ স্কুলে বা বাইরের কারোর সামনে গেলেই তার মুখে যেন তালা পড়ে যায়— এমন অভিযোগ প্রায়শই অনেক বাবা-মায়ের মুখেই শোনা যায়। আমরা সাধারণত ভেবে নিই, বাচ্চাটি হয়তো একটু লাজুক প্রকৃতির, বয়স বাড়লে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আচরণকে কেবল সাধারণ লাজুকতা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া মারাত্মক ভুল হতে পারে। এর নেপথ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে ‘সিলেকটিভ মিউটিজম’ (Selective Mutism) নামক এক বিশেষ মানসিক সমস্যা।
সিলেকটিভ মিউটিজম আসলে কী?
মনোবিদদের মতে, এটি মূলত এক ধরণের অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার। এই সমস্যায় আক্রান্ত শিশুরা নিজেদের পরিচিত গণ্ডি বা বাড়ির লোকজনের সঙ্গে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে কথা বললেও, স্কুল বা অচেনা কোনো পরিবেশে গেলে সম্পূর্ণ চুপ হয়ে যায়। তারা কথা বলতে চাইলেও তাদের ভেতরের তীব্র উদ্বেগ বা ভীতি তাদের মুখ খুলতে দেয় না। অনেক সময় তারা ইশারায় বা ঘাড় নেড়ে কাজ চালায়, কিন্তু মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের করতে পারে না।
কেন হয় এই সমস্যা?
-
নতুন পরিবেশ বা অচেনা মানুষের সামনে কথা বলার অতিরিক্ত ভয় এবং নিরাপত্তাহীনতা।
-
অতিরিক্ত শাসন, কড়া বকাঝকা কিংবা ছোটবেলায় কোনো অপ্রীতিকর বা ভীতিজনক অভিজ্ঞতা।
-
বংশগত বা জেনেটিক কারণেও এই ধরনের অ্যাংজাইটি হতে পারে।
বাবা-মায়েদের জন্য জরুরি করণীয়
যদি আপনার সন্তান টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বাড়ির বাইরে বা স্কুলে কথা বলা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়, তবে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে বাচ্চাকে জোর করে কথা বলানোর চেষ্টা করা বা বকাঝকা করা একদমই উচিত নয়। এতে তার উদ্বেগ আরও বেড়ে যেতে পারে। পরিবর্তে তার সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশুন, আত্মবিশ্বাস বাড়ান এবং প্রয়োজনে অবিলম্বে কোনো শিশু মনোবিদের (Child Psychologist) পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে থেরাপির মাধ্যমে এই সমস্যা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব।