উত্তরে ফের মাথা চাড়া দিচ্ছে জঙ্গি সংগঠন? কেএসডিসি-র আড়ালে কি কামতাপুর পুনরুদ্ধারের ছক কষছেন জীবন সিং?

উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ফের দানা বাঁধছে নতুন জল্পনা। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন (কেএলও) কি নতুন কোনো কৌশল নিয়ে মাঠে নামতে চাইছে? সম্প্রতি জলপাইগুড়িতে কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল (কেএসডিসি)-এর ব্যানারে চলা আন্দোলন এবং মিছিল ঘিরে এই প্রশ্নই এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।
কেএসডিসি-র আড়ালে কেএলও-র ছায়া?
দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গকে নিয়ে পৃথক কামতাপুর রাজ্যের দাবি জানিয়ে আসছে বিভিন্ন দল। সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করেছে ‘কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল’ বা কেএসডিসি। পৃথক রাজ্য এবং কামতাপুরী ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে তারা আন্দোলন চালাচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক জলপাইগুড়ির একটি মিছিল থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন কেএলও প্রধান জীবন সিংয়ের পক্ষে স্লোগান ওঠায় এবং তাঁর ছবি ব্যবহার করায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কেএসডিসি-র পথ সরাসরি সশস্ত্র না হলেও তাদের সঙ্গে জীবন সিংয়ের যোগাযোগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় জীবন সিংয়ের একটি ভিডিও বার্তাও সামনে এসেছে, যেখানে তিনি কেএসডিসি-র ওপর পুলিশি হেনস্থার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আর এখান থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, তবে কি নিষিদ্ধ কেএলও এবার কেএসডিসি-কে সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে নিতে চাইছে?
রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির দাতাটানা। সিপিএম সরাসরি এই ঘটনার নেপথ্যে বিজেপির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বর্তমান সরকারের আমলেই এই ধরনের উগ্রপন্থী শক্তিগুলি মাথাচাড়া দেওয়ার সাহস দেখাচ্ছে। সবমিলিয়ে, উত্তরবঙ্গের বুকে কামতাপুর রাজ্যের দাবিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই নতুন সমীকরণ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে বড় কোনো মোড় নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।