চ্যাটবটের প্রেমে মজেছিলেন এতদিন! এআই-এর কারসাজি ধরা পড়তেই প্রেমিকের সঙ্গে যা করলেন যুবতী…

পড়াশোনা থেকে শুরু করে বহুজাতিক সংস্থার কাজকর্ম—আজকের দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সবটুকু জায়গাই দখল করে নিয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তির এই অতি-নির্ভরতা যে মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাঝেও এমন অদ্ভুত সংকট ডেকে আনতে পারে, তা হয়তো অনেকেই আঁচ করতে পারেননি। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক তরুণীর অদ্ভুত বিচ্ছেদের গল্প দেখে হতবাক নেটপাড়া। প্রেমিকের ওপর গভীর অভিমান আর ক্ষোভে সম্পর্ক ভেঙে দিয়েছেন ওই তরুণী, কারণ তিনি জানতে পেরেছিলেন—তাঁদের ভালোবাসার সম্পর্কটি প্রেমিক কোনও আন্তরিক অনুভূতি দিয়ে নয়, বরং পরিচালনা করছিলেন একটি এআই বা চ্যাটবটের সাহায্যে।
এক্স হ্যান্ডেলে দেলিয়া লাজারেস্কু নামের এক ব্যবহারকারী তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর এই চাঞ্চল্যকর অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনেন। সান ফ্রান্সিসকোর বাসিন্দা ওই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্ক সামলানোর পুরো দায়িত্বটাই তিনি ‘আউটসোর্স’ করে দিয়েছিলেন যন্ত্রের হাতে। যে মিষ্টি মিষ্টি যত্নমাখা মেসেজ, সকালবেলার ‘গুড মর্নিং’, দিনে কেমন কাটছে সেই খোঁজ নেওয়া, কিংবা মনোমালিন্যের সময় সুন্দর কথায় ঝগড়া মেটানোর মতো বিষয়গুলোকে তরুণী ভালোবাসার প্রকাশ ভেবে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তেন, তার সবই নাকি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠাত এআই। এমনকি ডিনার ডেটের পরিকল্পনাও ঠিক করে দিত ওই চ্যাটবট। পুরো বিষয়টি সামনে আসতেই হতভম্ব হয়ে যান তরুণী। দেলিয়া তাঁর পোস্টে কটাক্ষ করে লেখেন, প্রেমিকের যত্ন ভেবে তাঁর বান্ধবী এতদিন আসলে একটি স্বয়ংক্রিয় ‘ক্রন জব’-এর সঙ্গেই আবেগ জড়িয়ে ফেলেছিলেন।
পোস্টটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা ও হাসির রোল। ভালোবাসার মতো সূক্ষ্ম অনুভূতিকে এভাবে স্বয়ংক্রিয় করে তোলা কি চরম প্রতারণা, নাকি প্রযুক্তির যুগে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার এক ধরনের শর্টকাট—তা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত নেটদুনিয়া। অনেকেই ওই যুবকের কাণ্ড দেখে হেসে খুন হয়েছেন, আবার অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন যে শব্দের পেছনে যদি অনুভূতিই না থাকে, তবে সেই শব্দের মূল্য ঠিক কতটা।
কমেন্ট বক্সে এক ব্যবহারকারী টিপ্পনী কেটে লিখেছেন, “সম্পর্কটা আউটসোর্স করেও শেষমেশ বিচ্ছেদের নোটিফিকেশনই দেখতে হল বেচারাকে!” কেউ কেউ আবার রসিকতা করে বলেছেন, রাজা-বাদশাহরা যখন ভৃত্য দিয়ে প্রেমের বার্তা পাঠাতেন তখন সেটা রোম্যান্টিক লাগলে, এআই মেসেজ পাঠালে দোষ কোথায়? তবে যাই হোক না কেন, প্রযুক্তির এই যুগে ভালোবাসার মাঝে ঢুকে পড়া ‘রোবট’ যে শেষমেশ মর্মান্তিক বিচ্ছেদের কারণ হয়ে দাঁড়াল, তা বেশ উপভোগ করছেন সমাজমাধ্যমের পাঠকেরা।