জমি কেনার আগে নতুন নিয়ম জানুন! নামজারিতে বড় বদল আনল ভূমি মন্ত্রণালয়

জমির নামজারি বা মিউটেশন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিতে এখন থেকে কোনো ভাগ-বাটোয়ারা না হলে আলাদা কোনো খতিয়ান খোলা যাবে না। বরং পরিবারের সব ওয়ারিশের নাম একই খতিয়ালে যৌথভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

এতদিন অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যেত, পরিবারের এক বা দুই সদস্য বাকিদের অন্ধকারে রেখে কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমি নিজেদের নামে একাই নামজারি করে নিতেন। নতুন নির্দেশিকা জারির ফলে সেই সুযোগ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হলো। ভূমি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর ফলে জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ এবং মামলার সংখ্যা অনেকটাই হ্রাস পাবে। বিশেষ করে নারী ওয়ারিশদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার যে প্রবণতা সমাজে দেখা যায়, তা অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে।

জেনে নিন নামজারির নতুন নিয়মের মূল দিকগুলি:

  • যৌথ নামজারি: উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে প্রাথমিক অবস্থায় সবার নাম যৌথভাবে একই খতিয়ানে আসবে। এর জন্য আলাদা কোনো বণ্টননামা দলিলের প্রয়োজন হবে না।

  • আলাদা খতিয়ানের শর্ত: যদি কোনো শরিক বা ওয়ারিশ নিজের নামে সম্পূর্ণ আলাদা খতিয়ান খুলতে চান, তবে অবশ্যই নিবন্ধিত বা রেজিস্টার্ড আপোষ-বণ্টননামা দলিল থাকতে হবে।

  • রেজিস্ট্রেশনে কড়াকড়ি: এখন থেকে নামজারি বা খতিয়ান ছাড়া কোনো জমি কেনাবেচা, দান কিংবা হেবা করা সম্ভব হবে না। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনের সময় খতিয়ান দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

  • আগের নামজারির ক্ষেত্রে: যাদের জমি ইতিমধ্যেই বহু আগে সঠিকভাবে নামজারি করা আছে, তাঁদের নতুন করে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বা নতুন করে আবেদন করারও প্রয়োজন নেই।

অনলাইনেই ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ভূমিসেবা পোর্টালের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি দিয়ে ২৮ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে এই নামজারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, উত্তরাধিকার সূত্রে জমি পাওয়ার পর পরিবারের সবাই মিলে আলোচনা করে যৌথ নামজারি সেরে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *