‘জমি হারিয়েও স্বস্তি নেই!’ কোলাথুর আসন নিয়ে এমকে স্টালিনের আবেদন খারিজ আদালতের

বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর এবার আইনি লড়াইয়েও বড় ধাক্কা খেলেন ডিএমকে প্রধান এমকে স্টালিন। কোলাথুর বিধানসভা কেন্দ্রের সমস্ত ভিভিপ্যাট (VVPAT) স্লিপ শতভাগ গণনার দাবি জানিয়ে স্টালিনের করা রিট পিটিশন খারিজ করে দিয়েছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার আদালতের প্রথম বেঞ্চ এই রায় দেয়। ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে কোলাথুর আসনটি থেকে স্টালিনকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছিলেন নতুন রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাঘম (TVK)-এর প্রার্থী ভিএস বাবু। টিভিকি প্রার্থী ভিএস বাবু পেয়েছিলেন ৮২,৯৯৭ ভোট এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্টালিন পেয়েছিলেন ৭৪,২০২ ভোট। ৮,৭৯৫ ভোটের ব্যবধানে স্টালিনকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নেন বাবু। ২০১১ সালে কোলাথুর কেন্দ্রটি গঠিত হওয়ার পর থেকে টানা তিনবার এই আসনে জয়ী হয়ে এসেছিলেন ডিএমকে প্রধান। ফলে এই হার ডিএমকের জন্য ছিল এক ঐতিহাসিক বিপর্যয়। নির্বাচন কমিশনের আপত্তি ও আইনি লড়াইহাইকোর্টে স্টালিনের করা এই রিট পিটিশনের তীব্র বিরোধিতা করেছিল নির্বাচন কমিশন (ECI)। কমিশনের যুক্তি ছিল, গণপ্রতিনিধিত্ব আইন (Representation of the People Act) অনুযায়ী নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করতে হলে নির্দিষ্ট আইনি পথে ‘নির্বাচনী পিটিশন’ (Election Petition) দায়ের করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই পথ এড়িয়ে সরাসরি রিট করা আইনসম্মত নয় বলে জানায় কমিশন। ভোটের ফল ঘোষণার তিন দিন পর, অর্থাৎ গত ৭ মে কোলাথুরের মোট ২৮৬টি ইভিএম সেটের মধ্যে ৫ শতাংশ অর্থাৎ ১৪টি ইভিএম ও ভিভিপ্যাট সেট যাচাইয়ের আবেদন করেছিলেন স্টালিন। কিন্তু সেই যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হতে দেরি হওয়ায় এবং তা ৫ আগস্ট শেষ হওয়ায় আইনি সময়সীমার মধ্যে তিনি প্রতিকার চাইতে পারেননি বলে আদালতে সওয়াল করেন তাঁর আইনজীবী। অন্যদিকে, ইভিএমে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে স্টালিন তাঁর জয় ও বাবুর নির্বাচন বাতিল করে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণার আর্জি জানিয়েছিলেন। তবে সমস্ত সওয়াল-জবাব শুনে হাইকোর্ট স্টালিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। বিজয়ের কৃতিত্ব বিজয়ের কাঁধেএই বড় জয়ের পর টিভিকে প্রধান থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্ব এবং স্থানীয় মানুষের আস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিজয়ী প্রার্থী ভিএস বাবু। এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাবু বলেন, তামিলনাড়ুর মানুষ রাজনৈতিক পরিবর্তন চেয়েছিল। তিনি বলেন, “আমাদের নেতার মুখই আজ সমগ্র তামিলনাড়ুর মুখ। স্থানীয় এলাকার মানুষ হিসেবে আমরা জনগণের নাড়ি স্পন্দন জানি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে না পারলে এবং স্থানীয়দের সমস্যা অনুধাবন না করলে শুধু মুখ্যমন্ত্রী বা বিধায়ক হলে চলে না।”