ট্রেনে খাবার কিনলেই কি বেশি টাকা দিয়ে ঠকছেন? IRCTS-র আসল রেট না জানলে বড় ভুল করছেন!

কর্মসূত্রে, শিক্ষার প্রয়োজনে কিংবা নিছক ভ্রমণের তাগিদে দূরপাল্লার ট্রেনে যাতায়াত করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। আর দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় ট্রেনের খাবার বা প্যান্ট্রিকারের খাবারের উপরই মূলত ভরসা রাখতে হয় যাত্রীদের। পছন্দমতো খাবার অর্ডার করলেই তা পৌঁছে যায় সিটে। কিন্তু এমন বহু ঘটনাই সামনে আসে, যেখানে যাত্রীদের কাছ থেকে খাবারের নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। অনেক সময় বিক্রেতারা প্লেট প্রতি অতিরিক্ত ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাবি করে বসেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে আইআরসিটিসি (IRCTC)-এর নির্ধারিত আসল দামগুলি ঠিক কত, তা কি আপনার জানা আছে?

ট্রেনের খাবারের সরকারি ও নির্ধারিত দাম
আইআরসিটিসি-র নিয়ম অনুযায়ী, ট্রেনে বিক্রি হওয়া প্রতিটি খাদ্যামূল্যের তালিকা নির্দিষ্ট করা থাকে। কোনো বিক্রেতাই এই নির্ধারিত দামের এক পয়সাও বেশি নিতে পারেন না। সাধারণত ট্রেন এবং স্টেশন ভেদে এই দামের সামান্য তারতম্য দেখা যায়। আইআরসিটিসি-র নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্টেশনে কোনো থালি কিনলে যা দাম পড়ে, চলন্ত ট্রেনে তার চেয়ে ১০ টাকা বেশি দিতে হয়।

মেইল, এক্সপ্রেস, হামসফর, রাজধানী, শতাব্দী, দুরন্ত, গতিমান, বন্দে ভারত এবং তেজস এক্সপ্রেসের মতো বিভিন্ন ট্রেনের ক্ষেত্রে খাবারের রেট আলাদা হয়ে থাকে। তবে মেইল, এক্সপ্রেস এবং হামসফর ট্রেনের ক্ষেত্রে খাবারের মেনু ও দাম একই থাকে।

কোন খাবারের ঠিক কত দাম?
চা ও কফি: স্টেশনে সাধারণ চা ৫ টাকা, আর ট্রেনে তার দাম ৫ টাকা হলেও টি ব্যাগ যুক্ত চা এবং কফির দাম ১০ টাকা ধার্য করা হয়েছে।

ব্রেকফাস্ট বা প্রাতরাশ: ট্রেনে কাটলেটের দাম ৪০ টাকা (স্টেশনে ৩৫ টাকা)। ইডলি, বড়া, উপমা বা পোঙ্গলের দাম ৪০ টাকা। এছাড়া অমলেটের দাম স্টেশনে ৪৫ টাকা এবং ট্রেনে ৫০ টাকা।

লাঞ্চ বা ডিনার (থালি):

ভেজ থালি: ট্রেনে ৮০ টাকা, স্টেশনে ৭০ টাকা।

ভেজ বিরিয়ানি: ট্রেনে ৮০ টাকা, স্টেশনে ৭০ টাকা।

ডিম থালি: ট্রেনে ৯০ টাকা, স্টেশনে ৮০ টাকা।

চিকেন থালি: ট্রেনে ১৩০ টাকা, স্টেশনে ১২০ টাকা।

বেশি দাম চাইলেই করুন অভিযোগ
যাত্রাপথে রেলের প্যান্ট্রিকার বা স্টেশনের ভেন্ডাররা যদি নির্ধারিত এই দামের চেয়ে বেশি টাকা দাবি করেন, তবে তা মেনে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। আপনার সঙ্গে জালিয়াতি বা অতিরিক্ত টাকা আদায়ের চেষ্টা হলে সঙ্গে সঙ্গেই রেলওয়ের হেল্পলাইন নম্বর ১৩৯ (139)-এ ফোন করে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *