‘উপরে কুস্তি আর রাতে দোস্তি!’ খোদ মমতার বিরুদ্ধেই বিজেপির সঙ্গে সেটিংয়ের বোমা ফাটালেন মদন মিত্র

‘এত দুর্নীতির পরেও কিছু হবে না, কারণ সেটিং আছে।’ এবার সরাসরি ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) সঙ্গে কালীঘাট ও তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের গোপন আঁতাঁতের গুরুতর অভিযোগ তুললেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। যদিও এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছে শাসকশিবির। এককালের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং বর্তমানে রাজনৈতিক সমীকরণে ভিন্ন শিবিরের বিধায়ক বলে পরিচিত মদন মিত্রের এই মন্তব্যের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
এদিন মদন মিত্র আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেন, “বিজেপির সঙ্গে সেটিং করার এই তত্ত্বটা পশ্চিমবঙ্গে যিনি প্রথম এনেছিলেন, তাঁর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিচ্ছু করবে না বিজেপি। আমি মদন মিত্র বলছি, বিজেপি মমতাকে বাঁচিয়ে রাখবে। তার কারণ, মমতার থেকে বড় বন্ধু বিজেপির আর কেউ নেই।” এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রা নিয়েও নানা চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছিলেন তিনি। সে সময় মদন মিত্র দাবি করেছিলেন যে, বিদেশ যেতে নাকি বিজেপির সঙ্গে সেটিং করতে রাজি ছিলেন অভিষেক। আর এবার সরাসরি দলনেত্রীকে নিশানা করে ফের মুখ খুললেন তিনি।
মদন মিত্র আরও বলেন, “চোখের সামনে যে জোচ্চুরি, যে মিথ্যা এবং প্রতি মুহূর্তে একটা কাল্পনিক বাতাবরণ তৈরি করা হচ্ছে—উপরে কুস্তি আর রাতে দোস্তি চলছে বিজেপির সঙ্গে। এগুলো দেখতে দেখতে আমরা টায়ার্ড হয়ে গিয়েছিলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি গত ১৫ বছর ক্ষমতায় না থাকতেন, তবে বিজেপি আরও ৫০ বছর এ রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে পারত না। বিজেপির যদি সত্যি কেউ চিফ ইলেকশন এজেন্ট থাকে ভারতবর্ষে, তবে তার নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরের নানা সমীকরণ ও মতপার্থক্যের আবহে মদন মিত্রের এই ধরনের ঝাঁঝালো আক্রমণ ও বিস্ফোরক দাবি আগামী দিনে শাসকদলের অস্বস্তি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে।