হাসপাতালে সিট নেই, মেঝেতেও জায়গা মিলছে না! হু হু করে বাড়তে থাকা ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে বড় তথ্য প্রকাশ

বর্ষার রেশ কাটতে না কাটতেই বাংলাদেশে ভয়াবহ রূপ নিতে শুরু করেছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। চলতি বছরে ইতিমধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা একশো ছাড়িয়েছে এবং আক্রান্তের মোট সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩৭ হাজার। রাজধানী থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলাজুড়ে হাসপাতালগুলোতে রোগীর উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
ভয়ংকর রূপ নিতে পারে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর: সাধারণত অগাস্ট থেকে অক্টোবর মাসকে ডেঙ্গুর ‘পিক সিজন’ বা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে কীটতত্ত্ববিদ ও গবেষকদের মতে, সামনের সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাস পরিস্থিতি আরও মারাত্মক হতে পারে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, শুধু সেপ্টেম্বরেই ৩০ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে পারে। এডিস মশার ঘনত্ব বর্তমানে ডেঙ্গু ছড়ানোর অনুকূল মাত্রায় রয়েছে বলেই এই আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে বেড সংকট ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ: পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তার প্রমাণ মিলছে রোগীর স্বজনদের অভিজ্ঞতা থেকেই। মিরপুরের এক দন্তচিকিৎসক সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ডেঙ্গু ধরা পড়ার পর আশপাশের কোনো হাসপাতালেই তিল ধারণের জায়গা বা সিট পাওয়া যায়নি। চড়া দাম দিয়েও বেড না পেয়ে শেষ পর্যন্ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে রোগীদের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের এক দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ডও ইতোমধ্যে ভেঙে গিয়েছে।
আক্রান্ত পুরুষ বেশি, কিন্তু মৃত্যু কেন নারীদের বেশি? তথ্য বলছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের ৬২ শতাংশই পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী। তবে মৃত্যুর পরিসংখ্যানে চিত্রটি উল্টো—মৃতদের প্রায় ৫৭ শতাংশই নারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক ও জৈবিক নানা কারণে নারীরা অনেক সময় দেরিতে চিকিৎসা নিতে আসেন কিংবা পরিবার সামলানোর দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় নিজেদের উপসর্গের বিষয়টি এড়িয়ে যান, যা তাঁদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়।
হঠাৎ কেন এই অবনতি? বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বর্ষার জমা জল এবং কার্যকর ‘ভেক্টর কন্ট্রোল’ বা সুনির্দিষ্ট মশা নিধন কর্মসূচির অভাবই ডেঙ্গু সংক্রমণ হু হু করে বাড়িয়ে দিচ্ছে। শুধু সাধারণ ফগিং বা ধোঁয়া দিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। লার্ভা জন্ম নেওয়ার সুনির্দিষ্ট স্থানগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।