আমেরিকার প্রভাব কমাতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন চাল চীনের! ট্রাম্প-যুগের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শি জিনপিং কেন বেছে নিলেন কায়রোকে?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ঐতিহ্যবাহী উপসাগরীয় মিত্রদের পাশ কাটিয়ে হঠাৎ মিশর সফর করলেন চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। বিশ্ব রাজনীতির এই নাটকীয় মোড় ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে, বেইজিংয়ের এই আচমকা কৌশলগত পরিবর্তনের নেপথ্য আসল কারণ কী?
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চীনের কূটনৈতিক হিসেবনিকেশে মিশরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে তিনটি প্রধান দিক। প্রথমত, সৌদি বা আমিরাতের মতো ইরানের সঙ্গে মিশরের কোনো সরাসরি কৌশলগত বা সামরিক বৈরিতা নেই। চলমান আঞ্চলিক সংঘাতে কায়রো তুলনামূলক নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে পেরেছে, যা বেইজিংয়ের কূটনীতির সঙ্গে একদম মিলে যায়। দ্বিতীয়ত, আমেরিকার সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও মিশর নিজেদের বৈদেশিক নীতির বিকল্পগুলো সর্বদা খোলা রেখেছে।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ সুয়েজ খালের ওপর মিশরের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধের জেরে এই বাণিজ্য রুটের কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সামরিক হস্তক্ষেপের রাস্তায় না হেঁটে বাণিজ্য, অবকাঠামো এবং কূটনীতির মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে শি জিনপিংয়ের প্রশাসন। আরব বিশ্ব এবং আফ্রিকার সংযোগস্থলে অবস্থিত মিশরকে হাতিয়ার করেই তাই ওয়াশিংটনের একাধিপত্যকে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়তে চলেছে চীন।