হুইস্কির গ্লাসে ভাসছে আসল মানুষের পায়ের আঙুল! এই অদ্ভুত পানীয় গিলতে পর্যটকদের লম্বা লাইন, জানেন কোথায় মিলছে?

ভাবুন তো, কোনো অভিজাত পানশালায় গিয়ে পছন্দের হুইস্কির পেয়ালায় বরফ বা লেবুর টুকরোর বদলে যদি ভাসতে দেখা যায় মানুষের আস্ত একটি পায়ের আঙুল! শুনতে যতটা ভয়ংকর ও অদ্ভুত লাগছে, বাস্তবে ঠিক এমনটাই ঘটে চলেছে কানাডার ইউকন অঞ্চলের ডসন সিটির একটি বিখ্যাত বারে। পর্যটকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয় এই পানীয়টির নাম— ‘সাওয়ারটো ককটেল’ (Sourtoe Cocktail)।
কী এই ‘সাওয়ারটো ককটেল’ এবং এর ইতিহাস? ১৯৭৩ সাল থেকে ডসন সিটির এই বারটিতে চালু রয়েছে এই রোমহর্ষক রীতি। এখনও পর্যন্ত এক লক্ষেরও বেশি পর্যটক সাহস করে এই অদ্ভুত পানীয়ের স্বাদ নিয়েছেন। এর নেপথ্যে রয়েছে এক অবাক করা ইতিহাস। কথিত আছে, ১৯২০-এর দশকে লুই লিঙ্কেন নামে এক রাম পাচারকারী ভয়াবহ তুষারঝড়ের মুখে পড়েছিলেন। তীব্র ঠান্ডায় তাঁর পায়ের আঙুলে পচন ধরার উপক্রম হলে তাঁর ভাই সেই আঙুলটি কেটে অ্যালকোহলে সংরক্ষণ করে রাখেন। বহু বছর পর ১৯৭৩ সালে ক্যাপ্টেন ডিক স্টিভেনসন একটি পুরোনো কেবিন পরিষ্কার করার সময় সেই সংরক্ষিত আঙুলটি খুঁজে পান। আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় এই অদ্ভুত ককটেল সংস্কৃতির।
পানের কড়া নিয়ম ও অদ্ভুত শর্ত: এই পানীয়টি খাওয়ার রয়েছে কিছু কঠোর এবং কৌতূহলোদ্দীপক নিয়ম:
-
প্রথমে বারে গিয়ে নির্দিষ্ট শট নিতে হয় এবং বিশেষ ‘সাওয়ারটো শপথ’ পাঠ করতে হয়।
-
এরপর সেই সংরক্ষিত মানুষের পায়ের আঙুলটি পানীয়ের গ্লাসে ফেলে দেওয়া হয়।
-
সবথেকে বড় শর্ত হলো, পানীয়টি দ্রুত বা ধীরে যেভাবে পান করা হোক না কেন, গ্লাসে থাকা আঙুলটি গ্লাসে চুমুক দেওয়ার সময় ঠোঁটে অবশ্যই ছোঁয়াতে হবে।
-
তবে সাবধান! আঙুলটি গিলে ফেলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অতীতে এমন ঘটনা ঘটার কারণে নিয়ম ভাঙলে মোটা অঙ্কের জরিমানার ব্যবস্থাও রয়েছে।
অদ্ভুত, গা ছমছমে এবং কিছুটা বিতর্কিত হওয়া সত্ত্বেও এই রোমাঞ্চকর পানীয়টি এখন কানাডার ডসন সিটির পর্যটনের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।