১.২০ লক্ষ টাকার গুগল পিক্সেল ১১ প্রোগে কি সত্যিই কোনো দম আছে, নাকি পুরোটাই লোক দেখানো? জানুন আসল সত্যি

প্রযুক্তি প্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাজারে চলে এসেছে গুগলের নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন গুগল পিক্সেল ১১ প্রো (Google Pixel 11 Pro)। এআই (AI) প্রযুক্তির চমক এবং শক্তিশালী ক্যামেরা ফিচারের ওপর ভর করে বাজারে এলেও, এই মেগা ফোনের পারফরম্যান্স নিয়ে টেক মহলে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ১১৯,৯৯৯ টাকা প্রারম্ভিক মূল্যের এই ফোনটি কতটা শক্তিশালী এবং কোথায় গিয়ে এটি পিছিয়ে পড়ল, তা নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা করা যাক।

ডিজাইন ও ডিসপ্লে: ফোনের ডিজাইনে কিছুটা নতুনত্ব এনে পিছনের ক্যামেরা বারে ফ্লোটিং লুক দেওয়া হয়েছে। ৬.৩ ইঞ্চির কম্প্যাক্ট ও প্রিমিয়াম ম্যাট গ্লাস ব্যাক ডিজাইনের এই ফোনে রয়েছে সুপার অ্যাকুয়া এলটিপিও ওএলইডি ডিসপ্লে, যা ১ থেকে ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট এবং ৩৬০০ নিটস পর্যন্ত ব্রাইটনেস দিতে সক্ষম। ফলে রোদের মধ্যে স্ক্রিন দেখতে কোনো সমস্যা হয় না।

পারফরম্যান্স ও জিপিইউর ঘাটতি: নতুন টেনসর জি৬ (Tensor G6) প্রসেসর দিয়ে তৈরি এই ফোনটি দৈনন্দিন কাজ, মাল্টিটাস্কিং বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত সাবলীল। তবে সবথেকে বড় ধাক্কা এসেছে গেমিংয়ের ক্ষেত্রে। হেভি গেমিংয়ের সময় এর গ্রাফিক্স প্রসেসর বা জিপিইউ কিছুটা দুর্বল প্রমাণিত হয়েছে, যা প্রতিযোগিতায় থাকা স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরগুলোর তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে।

জেमिनी এআই এবং ক্যামেরা: এই ফোনের সবথেকে বড় ইউএসপি হলো এর জেमिनी এআই ইন্টিগ্রেশন। কল অ্যাসিস্ট থেকে শুরু করে এআই সারাংশ বা ম্যাডিক এডিটরের মতো ফিচারগুলি বেশ কাজের। অন্যদিকে ক্যামেরার কথা বলতে গেলে, এর নতুন ৪৮ মেগাপিক্সেল সেন্সর এবং ৫x অপটিক্যাল টেলিফটো জুম অসাধারণ ছবি তোলে। ভারতীয় ত্বকের আসল রঙ ফুটিয়ে তুলতে এটি দারুণ কাজ করলেও কম আলোতে (Low-light) এক্সপোজার নিয়ে এখনও কিছুটা সমস্যা থেকে যায়।

ব্যাটারি ও চার্জিং: ৪,৮৫০ এমএএইচ ব্যাটারির এই ফোনটি সাধারণ ব্যবহারে অনায়াসে সারাদিন টিকলেও, চার্জিং স্পিডের দিক থেকে এটি খুব একটা চমক দেখাতে পারেনি। ৩০ মিনিটে প্রায় ৫৫ শতাংশ চার্জ হওয়ার ক্ষমতা এর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্ল্যাগশিপগুলোর তুলনায় কিছুটা শ্লথ।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: ১,১৯,৯৯৯ টাকা খরচ করে যারা দুর্দান্ত ক্যামেরা, ক্লিন সফটওয়্যার এবং শক্তিশালী এআই ফিচার খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি চমৎকার চয়েস। তবে যদি আপনার প্রধান অগ্রাধিকার হয় হেভি গেমিং বা হাই-এন্ড প্রসেসিং পাওয়ার, তবে এই বাজেটে বাজারে আরও শক্তিশালী অপশন উপলব্ধ রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *