বিশ্ব রাজনীতিতে বিরাট মোড়! আমেরিকা-ইরান উত্তেজনার মাঝে চিনের নতুন তুরুপের তাস কোন দেশ?

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক ময়দানে ফের একবার বড়সড় কূটনৈতিক চাল চালল চিন। সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (UAE) মতো দীর্ঘদিনের পার্সিয়ান উপসাগরীয় মিত্রদের খানিকটা এড়িয়ে হঠাৎ করেই মিশরের মাটিতে পা রাখলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বিশ্বজুড়ে যখন প্রশ্ন উঠছে যে ঠিক কী কারণে উপসাগরীয় হেভিওয়েটদের ছেড়ে কায়রোকে বেছে নিলেন চিনের রাষ্ট্রপ্রধান, তখন এর নেপথ্যে উঠে এসেছে তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী কারণ।

১. ইরানের সঙ্গে নেই কোনো সরাসরি শত্রুতা: মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতে একদিকে যখন ইজরায়েল-আমেরিকা বনাম ইরানের তীব্র কোন্দল চলছে, তখন সৌদি বা ইউএপির মতো সরাসরি তেহরানের বিরোধিতায় নামেনি মিশর। সমস্ত পক্ষের সঙ্গেই একটি ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে পারে কায়রো। আর ঠিক এই কারণেই চিন এমন একটি দেশকে বেছে নিয়েছে যারা প্রয়োজনমতো সবার সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যেতে সক্ষম।

২. নিরপেক্ষ বিদেশনীতি ও ব্রিকসের গুরুত্ব: আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও মিশর নিজেকে ওয়াশিংটনের একপেশে বলয় থেকে মুক্ত রেখেছে। রাশিয়া, চিন সহ একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরালো করার পাশাপাশি ২০২৩ সালে ব্রিকস (BRICS)-এর সদস্যপদ এবং ২০২৪ সালে চিনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর সঙ্গে হাত মেলানো প্রমাণ করে যে কায়রো স্বাধীন বৈদেশিক নীতি বজায় রাখতে পছন্দ করে। চিন এই সুযোগটিকেই নিজেদের কূটনীতির পক্ষে মোক্ষম হাতিয়ার বানিয়েছে।

৩. সুয়েজ খালের চাবিকাঠি ও বাণিজ্যের রুট: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীতে তেল সরবরাহের পথ যখন বিঘ্নিত হওয়ার উপক্রম, ঠিক সেই সময়ই এশিয়া ও ইউরোপের যোগাযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট— সুয়েজ খালের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে মিশরের হাতে। বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক দেশ হিসেবে চিন তার জ্বালানি ও বাণিজ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই মিশরের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করছে। ইতিমধ্যেই চিনের পক্ষ থেকে সেখানে ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধের বাজারে সামরিক শক্তির প্রদর্শনী নয়, বরং কূটনীতি, বাণিজ্য এবং কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চিন এবার তুরুপের তাস হিসেবে মিশরকেই বেছে নিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *