চোখের পলকে ছিটকে গেল ক্যাচ! রজত পতিদারের অবিশ্বাস্য ডাইভেই থামল ১৫ বছরের বৈভবের ঝড়

দলীপ ট্রফির সেমিফাইনালে এক অবিশ্বাস্য এবং চোখ জুড়ানো ক্যাচের সুবাদে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন মধ্যাঞ্চলের অধিনায়ক রজত পতিদার। বিধ্বংসী মেজাজে ব্যাট করতে থাকা তরুণ সেনসেশন বৈভব সূর্যবংশীর দুর্দান্ত ইনিংসের অবসান ঘটিয়ে রজত যে ফিল্ডিংয়ের নজির গড়লেন, তা ইতিমধ্যেই চলতি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ক্যাচ হিসেবে সিলমোহর পেয়েছে। ৩০ গজের বৃত্তের ভিতর থেকে মিড-উইকেটের দিকে বিদ্যুৎগতিতে পিছন দিকে দৌড়ে যেভাবে তিনি শূন্যে ভেসে ক্যাচটি লুফে নেন, তা দেখে তাজ্জব বনে গেছেন মাঠে উপস্থিত দর্শকরাও।
ঝড়ের গতিতে রান তোলার চেষ্টা ও বৈভবের আউট: ১৫৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে শুরুটা অত্যন্ত সতর্কভাবে করেছিলেন পূর্বাঞ্চলের তরুণ ব্যাটার বৈভব। কিন্তু ক্রিজে সেট হয়েই তিনি বোলারদের ওপর চড়াও হতে শুরু করেন। বিদর্ভের পেসার যশ ঠাকুরের ওভারের বলগুলিকে নিশানা করে পরপর একটি ছক্কা ও তিনটি চার হাঁকিয়ে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।
তবে সেই ওভারের শেষ বলেই ঘটে ছন্দপতন। যশের শর্ট ডেলিভারিতে বড় শট খেলতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন বৈভব। ব্যাটের কানায় লেগে বল আকাশে অনেক উঁচুতে উঠে যায়। বোলার বা অন্য ফিল্ডাররা যখন বলের নাগাল পাওয়ার বাইরে, ঠিক তখনই দুর্দান্ত দক্ষতায় পিছন দিকে দৌড়ে এসে বাজপাখির মতো বল লুফে নেন অধিনায়ক রজত পতিদার। শেষ পর্যন্ত ৪৩ বলে মূল্যবান ৪০ রান করে সাজঘরে ফিরতে হয় বৈভবকে।
পূর্বাঞ্চলের ব্যাটিং ধস: এর আগে এই টুর্নামেন্টের প্রথম ইনিংসেও দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন বৈভব। সেন্ট্রাল জোনের ২৬৬ রানের জবাবে মাত্র ৮১ বলে ৭টি চার ও ৭টি ছক্কার সাহায্যে ৯২ রানের ঝকঝকে এক ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। অভিমন্যু ঈশ্বরণের সঙ্গে তাঁর ওপেনিং জুটি দলের বড় পুঁজির ভিত গড়ে দিয়েছিল।
তবে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় ইনিংসে বৈভবের বিদায়ের পরই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পূর্বাঞ্চলের ব্যাটিং লাইনআপ। বাঁ-হাতি স্পিনার হর্ষ দুবের ঘূর্ণিতে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। ৬১ রানে বিনা উইকেটে থাকা দল হঠাৎ করেই মাত্র ৯৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে। হর্ষের শিকার হয়ে দ্রুত সাজঘরে ফেরেন অভিমন্যু ঈশ্বরণ এবং ১২ রান করা বিরাট সিং। বড় ম্যাচের এই নাটকীয় মোড় এখন দলীপ ট্রফির সেমিফাইনালকে আরও বেশি রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।