নেপালে হড়পা বানের ভয়াবহতা! উত্তরপ্রদেশের নদী থেকে ভেসে এল ২১টি মৃতদেহ

ভয়াল হড়পা বানের ক্ষত শুধু নেপালেই সীমাবদ্ধ নেই, সীমান্ত পেরিয়ে তার মর্মান্তিক প্রভাব এসে পড়ল ভারতেও। ভয়াবহ বিপর্যয়ের চার দিন পর থেকেই উত্তরপ্রদেশের নদী থেকে একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধার হতে শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশের সীমান্তবর্তী মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগর জেলা থেকে মোট ২১টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, নদীর জলস্তর আরও কমলে আগামী দিনে বহু দেহ ভেসে আসতে পারে। প্রাথমিক অনুমান, মৃতদেহগুলি নেপাল বিপর্যয়ের শিকার এবং সেগুলি গণ্ডক নদী বেয়ে ভারতে এসে পৌঁছেছে।
উদ্ধার হওয়া দেহ ও প্রশাসনিক তৎপরতা
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুশীনগর জেলা থেকে ১৩টি এবং মহারাজগঞ্জ থেকে ৮টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী দুই জেলাই নদীর গতিপথের ওপর কড়া নজর রাখছিল। কুশীনগরের অতিরিক্ত জেলাশাসক বৈভব মিশ্র জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া দেহগুলির পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। নদীর স্রোত অত্যন্ত প্রবল হওয়ায় উদ্ধারকাজ চালানোও বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এনডিআরএফের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, নেপাল থেকে মৃতদেহ ভেসে ভারতে আসার আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল, সেই কারণেই সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। দীর্ঘ সময় জলে থাকার কারণে কয়েকটি দেহ এতটাই পচে গিয়েছে যে পরিচয় শনাক্ত করতে ফরেন্সিক পরীক্ষার সাহায্য নিতে হচ্ছে।
পরিসংখ্যান ও নিখোঁজদের স্বজনদের উদ্বেগ
গত ২৬ অগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বান আছড়ে পড়েছিল। ভোটকোশি নদীর এই প্রবল স্রোত নিম্ন অববাহিকায় ত্রিশূলী নদীর সঙ্গে মিশে ভারতে প্রবেশের পর গণ্ডক নাম ধারণ করেছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, গত সপ্তাহের ওই ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৬২ জনে দাঁড়িয়েছে এবং এখনও প্রায় ৪ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। একদিকে নেপালে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে আকুল পরিবারগুলি, অন্যদিকে ভারতের নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দেহ উদ্ধারের ঘটনায় সীমান্তজুড়ে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।