শামির ব্যাটে উইনিং শট! মুকেশের আগুনে পেসে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের গুঁড়িয়ে দলীপের ফাইনালে পূর্বাঞ্চল

বাংলার দুই পেসার মুকেশ কুমার ও মহম্মদ শামির দুর্দান্ত বোলিং এবং তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশীর চোখধাঁধানো ব্যাটিং নৈপুণ্যে ভর করে দলীপ ট্রফির ফাইনালে জায়গা করে নিল পূর্বাঞ্চল। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন মধ্যাঞ্চলকে ৪ উইকেটে হারিয়ে দীর্ঘ এক যুগ পর (২০১২-১৩ মরশুমের পর) ফের খেতাবি লড়াইয়ে নামতে চলেছে দু’বারের চ্যাম্পিয়নরা।
রোমহর্ষক সেমিফাইনালের গতিপ্রকৃতি: টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মধ্যাঞ্চল তাদের প্রথম ইনিংসে ২৬৬ রান তোলে। দলের হয়ে সর্বাধিক ৬০ রান করেন রিঙ্কু সিং। জবাবে ব্যাট করতে নেমে পূর্বাঞ্চলের হয়ে দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তরুণ বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ৮১ বলে ৭টি ছক্কা ও ৭টি চারের সাহায্যে ৯২ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন তিনি। পাশাপাশি অভিজ্ঞ অভিমন্যু ঈশ্বরণ করেন মূল্যবান ৬৯ রান। তবে মিডল ও লোয়ার অর্ডারের ব্যর্থতার কারণে প্রথম ইনিংসে অলআউট হওয়ার পর দু’দলের স্কোরই ২৬৬ রানে টাই হয়, যা দলীপ ট্রফির ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।
শামি-মুকেশের পেস জাদু এবং ফাইনালের টিকিট: প্রথম ইনিংসে সমতা বজায় থাকার পর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলার পেসারদের সামনে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে মধ্যাঞ্চলের ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ১৫৮ রানে গুটিয়ে যায় তারা। দুর্দান্ত বোলিং করে একাই ৪টি উইকেট শিকার করেন মুকেশ কুমার, আর ৩টি উইকেট নেন মহম্মদ শামি। দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট ৭ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নায়ক হন মুকেশই।
১৫৯ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে শুরুটা কিছুটা ধাক্কা খেলেও জয় পেতে অসুবিধা হয়নি পূর্বাঞ্চলের। দ্বিতীয় ইনিংসেও বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাট থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৪০ রান। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক ইশান কিষাণের অপরাজিত ৩৯ রান এবং মহম্মদ শামির ব্যাট থেকে আসা উইনিং শট দলের জয় নিশ্চিত করে। ৩৯.৩ ওভারে ৪ উইকেট হাতে রেখেই কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নিয়ে ফাইনালের টিকিট পাকা করে পূর্বাঞ্চল। আগামী ফাইনালে উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে তারা।