পেঁয়াজের বাজারে আগুন! দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে তড়িঘড়ি বাফার স্টক ছাড়ল কেন্দ্র, কী বলছে বাজার বিশেষজ্ঞরা?

উৎসবের আবহের ঠিক আগে ফের চড়তে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। বিশেষ করে পেঁয়াজের ঝাঁজে চোখ দিয়ে জল পড়ার জোগাড় সাধারণ মানুষের। বাজারে পেঁয়াজের দাম হু হু করে বেড়ে বর্তমান ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় পৌঁছানোর পরেই পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নেমেছে কেন্দ্র। দেশের ১৯টি শহরে নামমাত্র মূল্যে পেঁয়াজ পৌঁছে দিতে সরকারিভাবে বাফার স্টক ছাড়ার বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
খুচরো বাজারে যখন অগ্নিমূল্য, তখন সাধারণ মানুষের পকেটের কথা মাথায় রেখে মাত্র ৩৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রির ব্যবস্থা করেছে সরকার। এনসিসিএফ (NCCF), নাফেড (NAFED) এবং কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারের পাশাপাশি একাধিক মোবাইল ভ্যান ও ন্যায্য মূল্যের দোকান থেকে এই পেঁয়াজ সংগ্রহ করা যাবে। রেলপথে ‘কান্দা এক্সপ্রেস’ এবং সড়কপথে প্রায় ৩০টি বিশেষ ট্রাকের মাধ্যমে রাজধানী দিল্লি, লখনউ, জয়পুর, কলকাতা, ভুবনেশ্বর সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পেঁয়াজ পাঠানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। শুধুমাত্র রাজধানীতেই ১০০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ পাঠানো হচ্ছে বলে খবর।
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও কেন এই সংকট? বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিকূল আবহাওয়া, অকাল বর্ষণ, সঠিক মজুত ব্যবস্থার অভাব এবং পরিবহণজনিত সমস্যার কারণে প্রতিবছরই এই নির্দিষ্ট সময়ে জোগানে ঘাটতি দেখা দেয়। এর ওপর ফড়ে ও কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। যদিও কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান এবং ক্রেতা বিষয়ক বিভাগের আধিকারিকরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত বাফার স্টক মজুত থাকার দাবি করেছেন, তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে এই স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপে কতদিন দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।