জলে নয়, সোনাঝরা মাখনে হোলি! উত্তরাখণ্ডের এই পাহাড়ি গ্রামে কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর আজব নিয়ম জানলে চোখ কপালে উঠবে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার ভাণ্ডার উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি অঞ্চল। এখানকার রূপনৌলসৌদ (Rupanoulsaud) নামের একটি মনোমুগ্ধকর পাহাড়ি কেন্দ্র তার লোক ঐতিহ্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। পবিত্র বৌখতিব্বা বৌখ নাগরাজা মন্দিরের কাছে অবস্থিত এই পর্যটন কেন্দ্রটি আগামী ৪ঠা সেপ্টেম্বর কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে একেবারে অন্য রূপ নিতে চলেছে। গঙ্গা ও যমুনা উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্তের গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে এখানে জল বা আবির নয়, বরং দুধ, তাজা মাখন এবং ঘোল দিয়ে ঐতিহ্যবাহী রীতিতে অভিনব ‘মাখন হোলি’ খেলবেন।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত রূপনৌলসৌদে জন্মাষ্টমীর এই বিশেষ দিনে উপচে পড়ে মানুষের ভিড়। গঙ্গা উপত্যকার দশগি ও ভান্ডারসায়ুন এবং যমুনা উপত্যকার মুঙ্গারসান্তি ও বারকোট অঞ্চল থেকে শত শত মানুষ এই উৎসবে অংশ নেন। দুই উপত্যকার মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। মাখন ও দুধ দিয়ে হোলি খেলার পাশাপাশি পাহাড়ি লোকগান এবং ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য এই অনুষ্ঠানকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পাহাড়ি অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গবাদি পশুর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মূলত গবাদি পশুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমেই এই অনন্য উৎসব পালন করেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। ঘন জঙ্গল ও উঁচু তৃণভূমি বা বুগিয়ালে ঘেরা রূপনৌলসৌদ থেকে মুসৌরি, দেরাদুন, নয়নবাগ ও বিকাশনগরের পাশাপাশি গঙ্গা ও যমুনা উপত্যকার চমৎকার দৃশ্য দেখা যায়। এখানকার সুবিশাল প্রাঙ্গণ দেখতে অনেকটা গলফ কোর্সের মতো। পৌরাণিক বিশ্বাস রয়েছে যে, এই অঞ্চলে দিব্য পরীরা বাস করেন, যাঁরা প্রকৃতির রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে পরিচিত।

গ্রীষ্মকালে এই এলাকার মখমলের মতো ঘাসের বুকে অজস্র রঙিন ফুল ফোটে, আবার শীতকালে পুরো চত্বরটি বরফের সাদা চাদরে ঢাকা পড়ে যায়। স্থানীয়রা যুগ যুগ ধরে এই সমভূমিকে গবাদি পশুর চারণভূমি হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন এবং বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় ট্রেকিং ও ক্যাম্পিং গন্তব্য হিসেবেও খ্যাতি লাভ করেছে। রাডি টপ থেকে মুরালতু, মঞ্জগাঁও বা কাপনোলের কাবাটা হয়ে হাঁটাপথে এখানে পৌঁছানো যায়। প্রাচীন ঐতিহ্য, লোকবিশ্বাস এবং প্রকৃতির নিখাদ সুন্দরের মেলবন্ধনে উত্তরাখণ্ডের রূপনৌলসৌদ পর্যটকদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণের জায়গা হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *