সারাদিন চেয়ারে বসে কাজ করছেন? অজান্তেই নিজের অজান্তে হাড়ের কী মারাত্মক ক্ষতি করছেন জানলে আঁতকে উঠবেন!

ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের সামনে একটানা বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করা প্রথম দর্শনে সাধারণ মনে হতে পারে, তবে এই একঘেয়ে ও কায়িক পরিশ্রমহীন জীবনযাত্রা বা ‘সেডেন্টারি লাইফস্টাইল’ ধীরে ধীরে আপনার হাড় ও পেশীর স্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অফিসের ডেস্কে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা কর্মীদের জন্য মূল চিন্তার বিষয় শুধু সময়ের হিসাব নয়, বরং শারীরিক নড়াচড়ার চরম অভাব এবং পেশীর নিষ্ক্রিয়তা।

বসে থাকার অভ্যাস কি বাতের রোগ ডেকে আনে?
অর্থোপেডিক বা হাড় বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে জয়েন্টে যে অস্বস্তি বা শক্তভাব (Stiffness) অনুভূত হয়, তার সঙ্গে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের (এক ধরণের ক্ষয়জনিত জয়েন্টের রোগ) পার্থক্য বোঝা জরুরি। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলেই যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্টিলেজ বা তরুণাস্থি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আর্থ্রাইটিস হয়ে যাবে—এমনটা নয়। তবে, কায়িক পরিশ্রমের অভাব আপনার শরীরের ওজন বৃদ্ধি করে এবং সার্বিক ফিটনেস কমিয়ে দেয়। এর ফলে হাঁটু ও কোমর বা নিতম্বের মতো শরীরের ভার বহনকারী জয়েন্টগুলির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।

একটানা ভুল ভঙ্গিতে (Ergonomics) বসে কম্পিউটার ব্যবহার করলে কোমর, ঘাড় ও কাঁধে তীব্র ব্যথা হতে পারে। ২০২১ সালে প্রকাশিত ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ বিহেভিয়ারাল নিউট্রিশন অ্যান্ড ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি’-র একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার সঙ্গে হাড় ও পেশীর দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে।

জয়েন্টের স্বাস্থ্যে নড়াচড়া ও ব্যায়ামের ভূমিকা
হাড়ের জয়েন্ট সুস্থ রাখতে শারীরিক সক্রিয়তার বিকল্প নেই। নিয়মিত ব্যায়াম জয়েন্টকে ধরে রাখা পেশীগুলিকে শক্তিশালী করে, নমনীয়তা বজায় রাখে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এমনকি যাঁদের ইতিমধ্যেই হাঁটুতে বাতের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্যও সঠিক শারীরিক কসরত বা ব্যায়াম ব্যথামুক্ত থাকতে ও হাঁটাচলার সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

ডেস্ক ওয়ার্কারদের জন্য জরুরি টিপস
১. একটানা বসে থাকা এড়িয়ে চলুন: কাজের ফাঁকে কিছুক্ষণ পরপর দাঁড়ান, একটু হেঁটে আসুন বা হালকা স্ট্রেচিং করে নিন।
২. ওয়ার্কস্টেশন সঠিকভাবে সাজান: মনিটরের স্ক্রিন যেন চোখের সোজা বা উপযুক্ত উচ্চতায় থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। বসার চেয়ার যেন আপনার পিঠ ও কোমরকে সঠিক সাপোর্ট দেয়।
৩. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) পরামর্শ: প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ থেকে ৩০০ মিনিট মাঝারি ধরনের অ্যারোবিক ব্যায়াম বা ৭৫ থেকে ১৫০ মিনিট ভারী ব্যায়াম করা উচিত। সেই সঙ্গে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন পেশী শক্তিশালী করার ব্যায়াম বা ‘মাসল স্ট্রেন্থেনিং এক্সারসাইজ’ করা উচিত।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি আপনার জয়েন্টে ক্রমাগত তীব্র ব্যথা, ফোলা ভাব থাকে বা দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে সমস্যা হয়, তবে নিজে থেকে ওষুধ বা চিকিৎসা না করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

মূল কথা: ডেস্ক জব মানেই যে আপনার হাড় বা জয়েন্ট নষ্ট হয়ে যাবে তা নয়, তবে কোনো শারীরিক কসরত না করে একটানা বসে থাকার জীবনযাত্রা আপনার হাড়ের স্বাস্থ্যকে দুর্বল করে দেয়। দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে কাজের ফাঁকে নিয়মিত বিরতি, সঠিক ভঙ্গিতে বসা এবং নিয়মিত ব্যায়াম শুরু করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমত্তা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *