পর্ন অ্যাপ ডাউনলোড করলেই নিমেষে সাফ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট! মেটা প্ল্যাটফর্মে ফাঁদ পেতেছে সাইবার অপরাধীরা

পর্নোগ্রাফি অ্যাপকে হাতিয়ার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা ও তথ্য চুরির এক বিরাট ছক কষেছে সাইবার অপরাধীরা। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে মেটা (Meta)-র বিভিন্ন অ্যাপে এই সমস্ত ক্ষতিকারক অ্যাপের বিজ্ঞাপন দেখিয়ে ফাঁদ পাতা হচ্ছে। এই বিষয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সোমবার ন্যাশনাল সাইবারক্রাইম থ্রেট অ্যানালিটিক্স ইউনিট (NCTAU)-র তরফে একটি বিশেষ নির্দেশিকা বা অ্যাডভাইসরি জারি করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।

যে ৭টি অ্যাপ নিয়ে চরম সতর্কতা

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ NCTAU-র তরফে প্রকাশিত ওই নির্দেশিকায় মূলত কয়েকটি নির্দিষ্ট ম্যালওয়্যারযুক্ত অ্যাপের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— Night Play, Reloop, Kyss, Vimo, Rivo, Nexo এবং Vixa। এছাড়াও এই ধরনের অচেনা বা সন্দেহজনক নামের অন্য কোনো অ্যাপ থেকেও সাধারণ মানুষকে কঠোরভাবে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে যে, এই অ্যাপগুলির কোডের ভেতরেই মারাত্মক ম্যালওয়্যার বা ভাইরাস লুকিয়ে রয়েছে, যা নিমেষে ব্যবহারকারীদের স্মার্টফোনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিতে সক্ষম।

কীভাবে ফাঁদে ফেলছে সাইবার অপরাধীরা?

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এই বিপজ্জনক অ্যাপগুলির বিজ্ঞাপন প্রথমে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে চালানো হয়। সেখান থেকে কোনো ব্যবহারকারী কৌতূহলী হয়ে অ্যাপটি ডাউনলোড করলেই আসল বিপদ শুরু হয়। ফোন বা ডিভাইসে ওই অ্যাপ নামানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন কন্টেন্ট অ্যাক্সেস করার জন্য (বিশেষ করে ভিডিয়ো ও ছবি) একটি বিশেষ APK ফাইল ডাউনলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর ওই APK ফাইলটির মাধ্যমেই ম্যালওয়্যার সরাসরি ফোনের সিস্টেমে ঢুকে পড়ে।

অনেক সময় অ্যাপগুলি ডাউনলোড করার ঠিক পরেই তা আপডেট করার তাগিদ দেওয়া হয়। সেই আপডেট করার প্রক্রিয়া চলাকালীনই ম্যালওয়্যারযুক্ত ফাইলটি ডিভাইসে ইনস্টল হয়ে যায়। এই ফাইলগুলি ডাউনলোড হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি ভিপিএন (VPN) চালিত হয়ে যায়, যা সমস্ত ইন্টারনেট ট্রাফিককে সোজা হামলাকারীদের সার্ভারে পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে হ্যাকাররা অনায়াসেই ওই ডিভাইসটির রিমোট অ্যাক্সেস বা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায়। পাশাপাশি, ইনস্টল করার সময় এই অ্যাপগুলি ফোনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফিচারের পারমিশন বা অনুমতি চেয়ে নেয়, যা পরবর্তীতে বড়সড় সাইবার অপরাধের পথ প্রশস্ত করে।

সুরক্ষায় প্রশাসনের কড়া নির্দেশ

যেহেতু এই ধরনের ক্ষতিকারক অ্যাপগুলি গুগলের অফিশিয়াল প্লে স্টোরে তালিকাভুক্ত (listed) থাকে না, তাই তারা সহজেই গুগলের নিজস্ব নিরাপত্তা বলয় বা সিকিউরিটি চেক এড়িয়ে ব্যবহারকারীদের ফোনে ঢুকে পড়ে। তাই মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, এই ধরনের অ্যাপগুলি যেন ভুলেও কেউ ডাউনলোড না করেন। এ ধরনের জালিয়াতি এড়াতে শুধুমাত্র বিশ্বস্ত মাধ্যম অর্থাৎ গুগল প্লে স্টোর অথবা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর ছাড়া অন্য কোনো অজানা সোর্স থেকে কোনো থার্ড-পার্টি অ্যাপ ডাউনলোড না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *