১ সেপ্টেম্বর থেকেই কি গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া বন্ধ? KYC নিয়ে বড় জল্পনার আসল সত্য জানুন!

এলপিজি (LPG) গ্রাহকদের জন্য আধার-ভিত্তিক ই-কেওয়াইসি (e-KYC) করার শেষ তারিখ ছিল ৩১ আগস্ট। গ্যাসের এই ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা অত্যন্ত বাধ্যতামূলক বলে আগেই জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলো এর আগে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা ধার্য করেছিল, যা পরবর্তীতে বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়। নির্ধারিত এই সময়সীমা শেষ হওয়ায় বহু গ্রাহক বর্তমানে তীব্র চিন্তায় পড়েছেন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে, ১ সেপ্টেম্বরের পর সিলিন্ডার বুকিং এবং গ্যাস ভর্তুকির ওপর এর কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং কেওয়াইসি ছাড়া আর সিলিন্ডার পাওয়া যাবে কি না।
আজ থেকে কি সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে?
কেন্দ্র সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, ৩১ আগস্টের নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার অর্থ এই নয় যে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ই-কেওয়াইসি না করা সমস্ত এলপিজি সংযোগ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রান্নার গ্যাসের রিফিল সরবরাহ স্বাভাবিকভাবেই চালু থাকবে। তবে সরকার এবং তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলো অদূর ভবিষ্যতে কেওয়াইসি-বিহীন গ্রাহকদের জন্য আরও কড়া বিধিনিষেধ বা পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাই যদি আপনার ই-কেওয়াইসি করা বাকি থাকে, তবে নতুন কোনো সরকারি নির্দেশের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত তা সম্পন্ন করে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এটি ভবিষ্যতে সিলিন্ডার বুকিং, ভর্তুকি এবং এলপিজির অন্যান্য সুবিধা পাওয়া সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের জটিলতা এড়াতে সাহায্য করবে।
সামাজিক মাধ্যমে বর্তমানে বেশ কিছু প্রতিবেদন বা জল্পনা প্রচার হচ্ছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে যাঁদের কেওয়াইসি করা নেই, তাঁরা ১ সেপ্টেম্বর থেকে একটিও গ্যাস সিলিন্ডার পাবেন না। এই ধরনের গুজবে কান না দিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এমন কোনো নিষেধাজ্ঞার নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়নি।
কেন ই-কেওয়াইসি করা অত্যন্ত জরুরি?
এলপিজি সংযোগটি সঠিক ও প্রকৃত গ্রাহকের নামে রয়েছে কি না এবং রান্নার গ্যাসের ভর্তুকি বা অপব্যবহার হচ্ছে কি না, তা রোধ করতেই এই ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেসব গ্রাহকের আধার-ভিত্তিক যাচাইকরণ এখনও বাকি রয়েছে, তাঁরা ভবিষ্যতে রিফিল বুক করতে কিংবা ভর্তুকির সুবিধাযুক্ত সিলিন্ডার পেতে বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে পারেন।
এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, প্রত্যেক গ্রাহককে বাধ্যতামূলকভাবে ই-কেওয়াইসি করতে হবে। যদি কোনো গ্রাহক এটি না করেন, তবে তাঁদের রান্নার গ্যাসের জন্য অতিরিক্ত মূল্য দিতে হতে পারে। যদিও ঠিক কত টাকা বাড়তি দিতে হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক নিশ্চিত করেনি। তবে বর্তমান বাজার দরের তুলনায় অনেকটাই বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হতে পারে বলে আগে ইঙ্গিত মিলেছিল। ৩১ আগস্ট মেয়াদ শেষ হলেও কেন্দ্র সরকার নতুন করে কোনো শাস্তিমূলক নির্দেশিকা জারি করেনি, তবুও যাঁদের এখনও ই-কেওয়াইসি বাকি আছে, তাঁদের অবিলম্বে তা সেরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কেওয়াইসি সম্পন্ন না হলে এখন কী করবেন?
আপনি যদি এখনও ই-কেওয়াইসি না করে থাকেন, তবে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। যত দ্রুত সম্ভব আপনার এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন অথবা আপনার গ্যাস কোম্পানির অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই নিজেই এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে নিন। পাশাপাশি, আপনি যদি ইতিমধ্যে ই-কেওয়াইসি করে থাকলেও মোবাইল এসএমএস বা অ্যাপে তা এখনও ‘পেন্ডিং’ দেখায়, তবে অবিলম্বে আপনার ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে গিয়ে ভেরিফিকেশন স্ট্যাটাসটি যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।