সোনা না কেনার আর্জি মোদীর! হুড়মুড়িয়ে ৬% পর্যন্ত পতন টাইটান, কল্যাণ জুয়েলার্সের শেয়ারে, মাথায় হাত বিনিয়োগকারীদের

সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একটি বিশেষ ভিডিও বার্তায় দেশবাসীকে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া সোনা না কেনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর এর পরেই তার মারাত্মক প্রভাব পড়ল শেয়ার বাজারে। প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার জেরে মঙ্গলবার দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গহনা সংস্থা—টাইটান কোম্পানি, স্কাই গোল্ড এবং কল্যাণ জুয়েলার্সের মতো জায়ান্টদের শেয়ার মূল্য এক ঝটকায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত পতন দেখেছে।
মঙ্গলবারের লেনদেন চলাকালীন বিএসই (BSE)-তে টাইটান কোম্পানির শেয়ার ২ শতাংশ কমে ৫,০১৫ টাকায় নেমে আসে। অন্যদিকে, কল্যাণ জুয়েলার্সের শেয়ার ৬ শতাংশ ধসে গিয়ে প্রতি শেয়ার ৫৭৮ টাকায় ঠেকেছে। পাশাপাশি, থাঙ্গামাইল জুয়েলার্সের শেয়ার ২ শতাংশ কমে ৫,৩২২ টাকা এবং স্কাই গোল্ডের শেয়ার ৬.৩ শতাংশ কমে প্রতি শেয়ার ৭৫৬ টাকায় এসে ঠেকেছে।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এমন আবেদন এই প্রথম নয়। এর আগে গত মে মাসে হায়দরাবাদের একটি অনুষ্ঠানে আগামী এক বছরের জন্য বিয়েতে সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। দেশের জ্বালানি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি নাগরিকদের বাড়ি থেকে কাজ করার পদ্ধতি বা ওয়ার্ক ফ্রম হোম এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশি ভ্রমণ কমানোরও পরামর্শ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ ভোক্তা এবং ২০২৬ অর্থবর্ষে প্রতি মাসে গড়ে ৬০ টন স্বর্ণ আমদানি করেছে, যার মাসিক আমদানি বিল প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার।
বাজারের প্রতিক্রিয়া ও অর্থনীতির সমীকরণ
ভারতীয় পরিবারগুলিতে সোনা কেবল একটি ধাতু নয়, বরং ঐতিহ্য, নিরাপত্তা, বিবাহ এবং দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের সবচেয়ে বড় প্রতীক। অনিশ্চয়তার দিনেও সোনাকে আস্থার জায়গা হিসেবে দেখে এ দেশের মানুষ। সেই কারণে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের পরেই বাজারে তীব্র বিক্রিয় চাপ তৈরি হয় এবং জুয়েলারি স্টকগুলি বড় ধাক্কা খায়। এর নেপথ্যে রয়েছে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, বাড়তে থাকা অপরিশোধিত তেলের দাম এবং ভারতীয় মুদ্রার ওপর চাপের মাঝে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা করার মতো বড় অর্থনৈতিক উদ্বেগ।
স্বর্ণের ভবিষ্যৎ ও বিশেষজ্ঞদের মত
জেফারিসের গ্লোবাল হেড অফ ইক্যুইটি স্ট্র্যাটেজি ক্রিস্টোফার উড এবং বিখ্যাত হেজ ফান্ড ম্যানেজার জন পলসনের মতে, সোনার দামের এই সাময়িক দরপতন আসলে বিনিয়োগকারীদের জন্য ধীরে ধীরে সোনা সঞ্চয় করার একটি দুর্দান্ত সুযোগ। তাঁদের মতে, ফিয়াট মুদ্রা বা সরকারি মুদ্রার ওপর মানুষের আস্থা কমতে থাকায় বিশ্বজুড়ে সোনার চাহিদা হু হু করে বাড়বেই। ২০০৯ সাল থেকেই সোনার ওপর বাজি ধরে আসা পলসনের দাবি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলি থেকে শুরু করে বেসরকারি খাত—সব জায়গাতেই সোনার রিজার্ভ বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে এবং অদূর ভবিষ্যতে সোনা বিশ্বের সবচেয়ে উপযুক্ত রিজার্ভ মুদ্রা হয়ে উঠতে পারে।