হাইকোর্টের সভা শেষের আগেই বড় বিপাকে মমতা! FIR দায়ের হতেই কি তিমিরাবর্তে ‘কালীঘাট তৃণমূল’?

আইনজীবীদের কড়া আইনি লড়াই এবং কলকাতা হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট অনুমতির পর গত ২৮ আগস্ট ক্যাথিড্রাল রোডে মহাসমারোহে সভা করেছিল নতুন রাজনৈতিক সংগঠন ‘কালীঘাট তৃণমূল’। সেই বহুচর্চিত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই সভা সফলভাবে সমাপ্ত হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তা নিয়ে চরম আইনি বিতর্ক এবং রাজনৈতিক জলঘোলা শুরু হয়েছে। সভা চলাকালীন নিয়মভঙ্গের অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে খাস কলকাতার হেস্টিংস থানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর আয়োজকদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই এফআইআর নথিভুক্ত হওয়ার পর এবার খুব শীঘ্রই আইনি প্রক্রিয়া মেনে রাজ্যের পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর সরকারি বয়ান রেকর্ড করার জন্য নির্দিষ্ট সময় চাওয়া হবে। তবে যদি এই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে কোনো রকম ইতিবাচক সাড়া না পাওয়া যায় বা সময় না দেওয়া হয়, তবে পরবর্তী সময়ে পুলিশ ঠিক কী কঠোর পদক্ষেপ করবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এই চাঞ্চল্যকর পুলিশি পদক্ষেপের পরেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র তির্যক মন্তব্য ও প্রতিবাদের ঝড়। ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেছেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনো বড় রাজনৈতিক দলের নেতা, কিংবা কোনো রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচিত সাংসদ—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে বা মহান কিছু নন। দেশের সংবিধান ও আইনের কাছে প্রত্যেককেই মাথা নীচু করে দাঁড়াতে হবে। এরপর তিনি আদালতে গিয়ে প্রমাণ করবেন যে তিনি আদৌ কোনো অপরাধ করেছেন কি করেননি।”
ঠিক কী অভিযোগ আনা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে?
হেস্টিংস থানা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তাদের নিজস্ব দায়ের করা অভিযোগপত্রে মূলত রাস্তায় যানজট তৈরি এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের দাবি, সভার একটি পর্যায়ে উল্টোদিকের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা দলীয় সমর্থকদের সোজা মঞ্চের কাছাকাছি চলে আসার জন্য আহ্বান জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই নির্দেশ পাওয়া মাত্রই ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর শত শত সমর্থক ফুটপাত ছেড়ে ক্যাথিড্রাল রোডের একেবারে পশ্চিমদিকের মূল রাস্তায় হুড়মুড়িয়ে ভিড় জমান। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, হঠাৎ করে এই বিপুল জনস্রোত রাস্তায় নেমে আসার ফলে ওই চত্বরে তীব্র যানজট তৈরি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে রাস্তায় আটকে পড়ে একাধিক জরুরি গাড়ি ও সাধারণ যানবাহন।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, সেই সময় ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সভা মঞ্চের ঠিক পাশেই কর্তব্যরত দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি হাইকোর্টের দেওয়া আগের রায়ের শর্ত ও নির্দেশনার কথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাতজোড় করে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাঁকে রাস্তায় না নামার জন্য বিশেষ অনুরোধও জানানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশের সেই বৈধ আবেদন ও সতর্কবার্তায় সেভাবে কান দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—এমনকি অভিযোগপত্রে সেই বিষয়টিরও অত্যন্ত স্পষ্ট ও জোরালো উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, আইনি জট এবং রাজনৈতিক তরজায় এই নতুন মামলা কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।