রাজ্য তথ্য কমিশনে বড় রদবদল! নতুন কমিশনার বাছাই করতে কাদের নিয়ে গড়া হল উচ্চপর্যায়ের কমিটি?

রাজ্য তথ্য কমিশনে নতুন তথ্য কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করল রাজ্য সরকার। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সম্প্রতি তিন সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ২৭ আগস্ট প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই বাছাই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে এবং কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ও রাজ্যের এক মন্ত্রী। কেন্দ্রীয় তথ্য জানার অধিকার আইনের (RTI Act) ১৫(৩) ধারা মেনেই এই কমিটি যোগ্য প্রার্থীদের শর্টলিস্ট করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রাজ্যপালের কাছে সুপারিশ পাঠাবে।

পশ্চিমবঙ্গ তথ্য কমিশন মূলত ২০০৫ সালের তথ্যের অধিকার আইনের আওতাধীন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। ২০০৫ সালের ১২ ডিসেম্বর বিজ্ঞপ্তি জারির পর ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাসে সরকারি গেজেটে এর প্রকাশ ঘটে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর ও সংস্থায় তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা তৈরি হলে বা নাগরিকরা প্রথম আপিলে সন্তুষ্ট না হলে, তাঁদের দ্বিতীয় আপিল ও অভিযোগের নিরপেক্ষ শুনানি করে থাকে এই কমিশন।

তবে দীর্ঘ দিন ধরেই এই কমিশনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ ফাঁকা রয়েছে। তথ্য কমিশনের সর্বোচ্চ পদ অর্থাৎ স্টেট চিফ ইনফরমেশন কমিশনারের পদটি ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল থেকে খালি রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত এই পদের দায়িত্ব সামলেছিলেন বীরেন্দ্র। অন্যদিকে, তথ্য কমিশনার পদেও বিগত কয়েক বছরে একাধিক রদবদল হয়েছে। ২০২২ সালে বীরেন্দ্র এবং নবীন প্রকাশ তথ্য কমিশনার হিসেবে যোগ দিলেও, নবীন প্রকাশ ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর অবসর নেন। একই বছরের জুনে ড. মৃগাঙ্ক মাহাতো ও সঞ্চিতা কুমারকে নতুন তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল।

কিন্তু চলতি বছরেই তথ্য কমিশনার পদ থেকে সঞ্চিতা কুমার পদত্যাগ করায় শূন্য পদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়। গত ২৫ আগস্ট রাজ্যপাল তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর থেকেই নতুন নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই শূন্যতা পূরণের উদ্দেশ্যে এর আগে গত ২৯ জুন পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস দফতরের পক্ষ থেকে নতুন তথ্য কমিশনার পদে আবেদন চেয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল।

বর্তমানে সেই সমস্ত আবেদনপত্র খতিয়ে দেখে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করার কাজ শুরু করেছে তিন সদস্যের এই বিশেষ কমিটি। মুখ্যমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা এবং মন্ত্রীর সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি সম্পূর্ণ আইনি নিয়ম ও কাঠামোর মধ্যেই সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত রাজ্যপালের কাছে নাম সুপারিশ করবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *