মুখের ব্রণ ভেবে ভুল করছেন না তো? ফাঙ্গাল নাকি সাধারণ অ্যাকনে, আসল সত্যিটা জানলে চমকে যাবেন!

ত্বকে ব্রণ বা পিম্পলস হওয়া একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা। কিন্তু মুখে যে দানাগুলি বেরোচ্ছে, তা সাধারণ অ্যাকনে নাকি ফাঙ্গাল ইনফেকশন, তা নিয়ে অনেকেই ধোঁয়াশায় থাকেন। দেখতে প্রায় একই রকম হলেও এই দুটির চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা। চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ ব্রণ মূলত ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমা হওয়া, পোরস বন্ধ হয়ে যাওয়া বা হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হয়ে থাকে। অন্যদিকে, ফাঙ্গাল অ্যাকনে (যার ডাক্তারি নাম Malassezia folliculitis) আদতে কোনো সাধারণ ব্রণ নয়, বরং ত্বকের রোমে এক ধরণের ইস্ট বা ফাঙ্গাসের মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধির ফলে এটি দেখা দেয়।
সাধারণ অ্যাকনে বনাম ফাঙ্গাল অ্যাকনের প্রধান তফাত:
-
সাধারণ অ্যাকনে (Regular Acne): এতে ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস এবং বড় ও ব্যথাযুক্ত সিস্ট দেখা দিতে পারে। সাধারণত মুখ, নাক বা চিবুকের আশেপাশে এর উপদ্রব বেশি থাকে।
-
ফাঙ্গাল অ্যাকনে (Fungal Acne): এতে ত্বকে ছোট ছোট, হুবহু এক আকৃতির লাল বা ত্বকের রঙের দানা দেখা যায় এবং এগুলিতে তীব্র চুলকানি হয়। এটি সাধারণত কপাল, বুক, পিঠ এবং কাঁধের অংশে বেশি ছড়িয়ে পড়ে। গরম, অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও ঘামের কারণে এই সমস্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
ফাঙ্গাল অ্যাকনে হলে কী করণীয়?
ত্বক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সাধারণ ব্রণের ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম ফাঙ্গাল অ্যাকনেতে সবসময় কাজ করে না। তাই মুখের দানা দেখে নিজে থেকে কোনো ওষুধ বা হেভি ক্রিম ব্যবহার না করে কিছু প্রাথমিক সতর্কতা মেনে চলা উচিত:
-
ত্বক সবসময় পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখার চেষ্টা করুন এবং অতিরিক্ত ঘেমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা মুছে ফেলুন।
-
খুব বেশি তেলযুক্ত স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট বা হেয়ার অয়েল ব্যবহার থেকে দূরে থাকুন।
-
ফাঙ্গাল অ্যাকনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টি-ফাঙ্গাল চিকিৎসা বা কিটোকোনাজল (ketoconazole) জাতীয় উপাদানের সাহায্য নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
ত্বকের সঠিক যত্ন নিতে এবং সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা শুরু করতে এই দুই ধরনের সমস্যার পার্থক্য বুঝে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।