ত্রিশূলি নদীর সেই তাণ্ডবলীলার সাক্ষী খোদ স্থানীয় বাসিন্দা! সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফেরার মর্মান্তিক কাহিনী জানুন

প্রকৃতির এক বিধ্বংসী রূপ দেখে কাঁপছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল। ভয়াবহ হড়পা বান ও ভূমিধসের বিপর্যয়ের ৬ দিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রাণের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ত্রিশূলি বিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা ৯০৩ ছুঁয়েছে এবং নিখোঁজের সংখ্যা ছাড়িয়েছে চার হাজার দুই শ’র গণ্ডি। ঠিক কী ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে সেদিন সাধারণ মানুষ বেঁচে ফিরেছিলেন, এবিপি আনন্দের মুখোমুখি হয়ে সেই রোমহর্ষক ও মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন এক স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী।

সেদিনের ভয়াবহ সেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ওই প্রত্যক্ষদর্শী জানান, চোখের সামনে যেভাবে জলের স্রোত সবকিছু গ্রাস করেছিল, তা ভোলার নয়। তিনি জানান, যখন হড়পা বান নামছিল, তখন তিনি অন্যপ্রান্ত থেকে নিজের দাদিকে আনতে গিয়েছিলেন। তাঁর চোখের সামনেই অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন স্কুল পড়ুয়াকে সেই আকাশছোঁয়া জলের বান ভাসিয়ে নিয়ে চলে যায়। চোখের পলকে চোখের সামনে আস্ত একটা নতুন সেতু হুড়মুড়িয়ে ভেঙে ভেসে যেতে দেখেছেন তিনি।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই সেতু ভাঙার ভিডিওর সত্যতা স্বীকার করে প্রত্যক্ষদর্শী জানান, জলের সেই দানবীয় জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে সব লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। সেতু ভেঙে যাওয়ায় বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। যেখানে সামান্য পথ পার হতে নামমাত্র সময় লাগত, সেখানে এখন ঘুরে যেতে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। এই ধ্বংসস্তূপ ঠেলে কবে জনজীবন আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে এবং মানুষ কবে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে, এখন শুধু তারই অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন সর্বস্বহারা নেপালের বাসিন্দারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *