‘পরের জন্মে ডাক্তার হব!’ বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে না পেরে চরম পথ বেছে নিলেন দুই পরীক্ষার্থী

পরীক্ষার ঠিক দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ফের এক মর্মান্তিক বিপদের ছবি সামনে এল। আর মাত্র একদিন পরেই ছিল NEET-PG পরীক্ষা। কিন্তু তার আগেই শনিবার হায়দরাবাদের একটি বেসরকারি হস্টেলে বিষাক্ত পদার্থ খেয়ে আত্মহত্যা করলেন ২৬ বছরের এক তরুণী পরীক্ষার্থী। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই ছাত্রীর নাম যশবিথা। তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের কড়পা জেলার বাসিন্দা ছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময় থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন যশবিথা। স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শেষ করার পর গত কয়েক মাস ধরে তিনি হায়দরাবাদেই থেকে NEET-PG প্রবেশিকা পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঘটনার পর পুলিশ তাঁর ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। সেখানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভোগার কথা এবং সেই হতাশা কাটিয়ে উঠতে না পারার কথা লিখে গিয়েছেন। এই ঘটনায় চিক্কাডপল্লি থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।
অন্যদিকে, চলতি মাসেই মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর জেলায় অনুরূপ এক মর্মান্তিক ঘটনায় আরও এক ১৯ বছরের NEET পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর সামনে আসে। মৃত ওই ছাত্রের নাম কৃষ্ণা সুভাষ সোনাওয়ানে। বৈজাপুর তালুকের খান্দালা গ্রামে নিজের বাড়ি থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষ্ণা NEET-UG পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঘটনার দিন বাড়ি ফিরে তিনি নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। পরিবারের সদস্যরা বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং তাঁর মৃতদেহ দেখতে পান।
ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। যেখানে অত্যন্ত মর্মান্তিক ভাষায় লেখা ছিল, “আমি পরের জন্মে ডাক্তার হব।” পাশাপাশি, পরীক্ষায় সফল হতে না পারা এবং বাবা-মায়ের উচ্চাশা ও প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার জন্য তিনি চিঠিতে গভীর দুঃখপ্রকাশ করে গিয়েছেন। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সরকারি হাসপাতালে পাঠায়। এই ঘটনায় পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা (ADR) রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। পরপর দুটি এমন মর্মান্তিক ঘটনায় দেশজুড়ে ছাত্রসমাজের মানসিক স্বাস্থ্য ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার চাপ নিয়ে ফের একবার গভীর উদ্বেগের মেঘ তৈরি হয়েছে।