‘ফুচকাতে কলকাতাই সেরা’—এই অহংকার ভেঙে চুরমার! ফুচকা খাওয়ার আসল চ্যাম্পিয়ন কে জানেন?

বাঙালিরা বুক ফুলিয়ে যতই বলুন ‘ফুচকায় কলকাতাই সেরা’, সাম্প্রতিক সমীক্ষার রিপোর্ট কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য কথা বলছে। দিল্লি কিংবা কলকাতাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে ফুচকা খাওয়ার আসল চ্যাম্পিয়ন হয়ে বসেছে মায়ানগরী মুম্বই।

খাবারের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় চোখ রাখলে যে কারও চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। মুম্বই শহরের ভোজনরসিকরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ থেকে ২৫ লাখ প্লেট পানি পুরি স্রেফ গায়েব করে দেন। এমন চোখ ধাঁধানো বিক্রির সংখ্যার জোরেই ফুচকার রাজধানী হিসেবে মুকুট ছিনিয়ে নিয়েছে তারা।

নামে কী-বা আসে যায়, ফুচকা পেলেই হলো! এই খাবারই আবার দিল্লিতে ‘গোলগাপ্পা’, বাংলায় আমাদের প্রিয় ‘ফুচকা’, ওড়িশা কিংবা ছত্তীসগঢ়ে ‘গুপচুপ’ এবং মুম্বইয়ের গলিতে ‘পানি পুরি’ নামে রাজত্ব করছে। জায়গা বদলালেও প্লেট শেষ করে ‘আরেকটু ফাউ, আর টক জল’ চাওয়ার লোভ সর্বত্রই এক।

আলু সেদ্ধ, ঘুগনি, ভেজানো ছোলা আর চাটনির জমজমাট মশলা মচমচে পুরির ভেতর পুরে, পুদিনা-তেঁতুলের টক জলে ডুবিয়ে মুখে পুরলেই নিমেষে স্বর্গসুখ। মুম্বইয়ের অলিগলিতেও স্বাদের এই বৈচিত্র্য দারুণ জমজমাট। কোথাও মিষ্টি তেঁতুল জলের আধিপত্য, তো পাশের মোড়েই মিলবে পুদিনা ও রসুনের ঝাঁঝালো জল। লোকাল ট্রেনের তাড়া হোক কিংবা শপিং মল চত্বর—স্টেশন থেকে বাজার, সবজির গাড়ির মতো সর্বত্রই চোখে পড়ে লম্বা লাইন।

ভাদাপাও কিংবা পাভ ভাজিকে পেছনে ফেলে রোজকার আড্ডায় এখন পানি পুরির দাপটই সবচেয়ে বেশি। ঐতিহ্যবাহী রগড়া পুরি থেকে শুরু করে জেন-জিদের দৌলতে চিজ বা চকোলেট পানি পুরির মতো আধুনিক এক্সপেরিমেন্টেও মজেছে শহর। প্রতিদিনের এই লাখ লাখ প্লেটের বিরাট বিক্রিই প্রমাণ করে দিয়েছে, ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, পেটপুজোর ব্যাপারে বিন্দুমাত্র আপস করতে রাজি নন মুম্বইয়ের মানুষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *