ডাক্তারি পড়ার জন্য দিয়েছিলে দেহ, মার্কিন সেনা সেটি দিয়ে করল ব্লাস্ট টেস্ট! মর্মান্তিক প্রতারণার শিকার স্ত্রী

চিকিৎসা বিজ্ঞান ও গবেষণার অগ্রগতির জন্য মৃত প্রিয়জনের দেহ দান করার মহৎ সিদ্ধান্ত নেন অনেকেই। কিন্তু সেই সদিচ্ছার আড়ালে যে এমন এক ভয়ঙ্কর ও মর্মান্তিক প্রতারণা লুকিয়ে থাকতে পারে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি আমেরিকার এক মহিলা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পড়াশোনার বদলে তাঁর মৃত স্বামীকে ব্যবহার করা হয়েছিল সেনার বোমা বিস্ফোরণ বা ব্লাস্ট টেস্টের (Blast Test) ক্র্যাশ ডামি হিসেবে! সম্প্রতি এই সত্য সামনে আসতেই শোকে পাথর হয়ে গেছেন ওই মহিলা।
ঠিক কী ঘটেছিল?
জানা গেছে, ওই মহিলার স্বামী স্টিভ হ্যানসেন (Steve Hansen) লিভারের সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর, তাঁর অঙ্গগুলি প্রতিস্থাপনের উপযুক্ত ছিল না. এরপর হস্পিস কর্মীদের পরামর্শেই তাঁর দেহ চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণার জন্য দান করার সিদ্ধান্ত নেন তাঁর স্ত্রী জিল হ্যানসেন (Jill Hansen)। তাঁর ধারণা ছিল, অ্যালকোহল কীভাবে মানবশরীরকে ধ্বংস করে, তা নিয়ে গবেষণা করে চিকিৎসকরা উপকৃত হবেন।
কিন্তু তাঁর অজান্তেই অ্যারিজোনার একটি বেসরকারি বডি ব্রোকার সংস্থা (Biological Research Center) সেই দেহটি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের কাছে বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে জিল জানতে পারেন যে, তাঁর স্বামীর মৃতদেহটি একটি সামরিক হামভি (Humvee) বিস্ফোরণের simulated পরীক্ষায় ক্র্যাশ টেস্ট ডামি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। অনুমতি ছাড়া এই ধরণের বর্বরোচিত ব্যবহারের কথা জানতে পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। পরে এফবিআই ওই সংস্থার কর্ণধারকে গ্রেফতার করলে এই ডার্ক বডি ট্রেডের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: মৃতদেহ দানের নামে এই ধরনের বেআইনি ও অনৈতিক ব্যবসা বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে।