ফ্লপ থেকে সোজা মহানায়ক! উত্তম কুমারের জীবনের কোন অজানা সংগ্রামের কথা তুলে ধরে দেশবাসীকে চমকে দিলেন প্রধানমন্ত্রী?

আর মাত্র কয়েকদিন পরেই বাংলার সর্বকালের সেরা তথা মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ। তার আগে রবিবার জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৭তম পর্বে মহানায়ককে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উত্তম কুমারের বহুমুখী অভিনয় প্রতিভা, সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা এবং জীবনযুদ্ধের কথা বলতে গিয়ে কলকাতার একটি বিশেষ স্মৃতির কথাও ভাগ করে নেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, একবার কলকাতায় রোড শো করার সময় তিনি কাকতালীয়ভাবে উত্তম কুমারের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই সময় কেউ তাঁকে মহানায়কের একটি বিশেষ ছবিও উপহার দিয়েছিলেন, যা আজও তাঁর মনে সযত্নে রয়েছে। উত্তম কুমার কেবল একজন অভিনেতা নন, বরং তিনি কোটি কোটি মানুষের আবেগ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। রোম্যান্টিক হিরোর গণ্ডি পেরিয়ে যে কোনো চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল তাঁর। বিশেষ করে সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী ছবি ‘নায়ক’-এর কথা বলতে গিয়ে মোদী জানান, সিনেমাপ্রেমীরা মনে করেন যে পরিচালক স্বয়ং উত্তম কুমারকে মাথায় রেখেই ওই ছবির চিত্রনাট্য বুনেছিলেন।

উত্তম কুমারের অভিনয় জীবনের শুরুর দিকের লড়াইয়ের দিকটিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। কেরিয়ারের প্রথম দিকে পরপর বেশ কিছু ছবি বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁকে ‘ফ্লপ মাস্টার জেনারেল’ তকমা দিয়ে কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল। কিন্তু সেই সমালোচনা ও ব্যর্থতায় ভেঙে না পড়ে কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন। ব্যর্থতাকে জয় করে কীভাবে শীর্ষে পৌঁছানো যায়, উত্তম কুমারের জীবন থেকে তরুণ প্রজন্মের সেটাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *