দীর্ঘদিন বিজেপি করলেই মিলবে না টিকিট! কলকাতা পুরভোটে প্রার্থী হওয়ার আসল শর্ত ফাঁস করলেন সুকান্ত

রাজ্যে ক্ষমতা দখলের পর প্রথম পুরভোটকে পাখির চোখ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। বিশেষ করে কলকাতা পুরসভা দখল করার লক্ষ্যেই কোমর বেঁধে নামছে গেরুয়া শিবির। আর সেই কারণেই আসন্ন কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে রাজ্য বিজেপি। তবে দল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নতুন-পুরনো বহু মুখ দলে নাম লেখানোয় টিকিট প্রত্যাশীর সংখ্যা একলাফে অনেকটাই বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রার্থী নির্বাচন ও আদি-নব্য দ্বন্দ্ব নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
প্রার্থী বাছাইয়ে কোন বিষয়গুলিকে দেখা হবে?
দলের অন্দরে আদি ও নব্যের সংঘাত এবং টিকিট বণ্টন নিয়ে জল্পনার মাঝেই সুকান্ত মজুমদার স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দলীয় টিকিটের ক্ষেত্রে পুরনো দিনের সদস্য হওয়াই একমাত্র মাপকাঠি নয়। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সুকান্ত জানান:
-
নির্বাচনে জেতার ক্ষমতা বা জেতানোর সম্ভাবনা সবথেকে বেশি থাকা প্রয়োজন।
-
প্রার্থীর সৎ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তি থাকা বাধ্যতামূলক।
-
সমাজে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা এবং ভালো জনসংযোগ আছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
সুকান্ত মজুমদার সাফ জানিয়েছেন, “নির্বাচন জেতানো এবং সংগঠন দুটো আলাদা বিষয়। আদি-নব্য বলে কিছু নেই, তার কারণ বিজেপিতে কাউকে যোগদান করানো হয়নি ভোটের পর। ঝাড়াই বাছাই করে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি-র সঙ্গে যুক্ত বা বিজেপি করেন, এমন কোনো শর্ত নেই। যে ভোটে জিততে পারবে তাঁকে টিকিট দেওয়া হবে।”
১৫০টি আসন জয়ের লক্ষ্য বিজেপির
উল্লেখ্য, আসন্ন পুরভোটের আগে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডগুলির সীমানা পুনর্বিন্যাস হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে ১৪৪টি ওয়ার্ড থেকে বেড়ে কলকাতা পুর এলাকায় ওয়ার্ডের সংখ্যা ২০০-রও বেশি হতে পারে। সুকান্ত মজুমদার আগেই জানিয়েছেন যে, এই ওয়ার্ডগুলির মধ্য থেকে অন্তত ১৫০টি আসন জয়ের লক্ষ্যেই ময়দানে নামবে বিজেপি। এখন দেখার, এই কঠোর ও স্বচ্ছ প্রার্থী বাছাইয়ের নীতি নিয়ে গেরুয়া শিবির কতটা সফল হয় ছোট লালবাড়ি দখলের লড়াইয়ে।