মাটির তলায় লুকিয়ে ছিল সাড়ে ছ’শো বছরের রাজত্ব! বিরল সব মুদ্রার খোঁজ মিলতেই চক্ষু চড়কগাছ বিশেষজ্ঞদের

রাশিয়ার কলোমনা শহরে সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক আবিষ্কার সামনে এসেছে, যা দেখে রীতিমতো অবাক হয়ে গেছেন ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিকরা। মস্কো থেকে প্রায় ১১৪ কিলোমিটার দূরে একটি খননকার্য চলার সময় মাটির নিচ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি প্রাচীন মাটির কলসি। আর সেই কলসির ভেতর থেকে পাওয়া গেছে প্রায় ২৬০০টি রূপোর প্রাচীন মুদ্রার একটি বিশাল গুপ্তধন।
কী রয়েছে এই গুপ্তধনে? রাশিয়ান একাডেমি অফ সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অফ আর্কিওলজির তথ্য অনুযায়ী, এই গুপ্তধনটি ১৪ থেকে ১৫ শতকের। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এর মধ্যে সাড়ে তিনশোটিরও বেশি মুদ্রা এমন রয়েছে, যেগুলোর নকশা বা অস্তিত্ব এর আগে বিশ্বের সামনে কখনও আসেনি। ১৪th-১৫th শতকে কলোমনা ছিল একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী ও শক্তিশালী অঞ্চল। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, তৎকালীন সময়ের কোনো বড় ব্যবসায়ী বা প্রভাবশালী আধিকারিক কোনো বিপদের আশঙ্কায় নিজের এই বিপুল সম্পত্তি মাটির নিচে লুকিয়ে রেখেছিলেন।
যেভাবে ফাঁস হলো ৬০০ বছরের পুরনো রহস্য: বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুদ্রার বেশিরভাগই ‘দেঙ্গা’ নামক প্রাচীন মুদ্রার, যা সেই সময় মস্কোর রাজত্বে চালু ছিল। উদ্ধার হওয়া মুদ্রার মধ্যে প্রিন্স ভাসিলি প্রথম এবং ভাসিলি দ্বিতীয়-এর আমলের ছাপ রয়েছে। গবেষকদের একাংশের মতে, ১৪২৪ থেকে ১৪২৭ সালের মধ্যে রাশিয়ায় একটি ভয়ঙ্কর প্লেগ মহামারী ছড়িয়ে পড়েছিল। সম্ভবত মহামারীর ভয়ে সেই ব্যক্তি নিজের সমস্ত ধনসম্পদ মাটির নিচে লুকিয়ে রেখেছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি নিজে সেই মহামারীর কবলে পড়ে মারা যান। আর সেই কারণেই প্রায় ৬০০ বছর ধরে এই অমূল্য রহস্য মাটির তলেই চাপা পড়েছিল। বর্তমানে প্রত্নতাত্ত্বিকরা এই বিরল মুদ্রাগুলি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা শুরু করেছেন।