স্কুলের গণ্ডিতেই নাবালিকার সঙ্গে চরম নিগ্রহ! কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যে সাজা পেল লম্পট ওয়ার্ডেন

ত্রিপুরায় এক নাবালিকা ছাত্রীর ওপর পৈশাচিক যৌন নির্যাতনের ঘটনায় কড়া বার্তা দিল আদালত। উত্তর ত্রিপুরা জেলার একটি স্কুলের হস্টেল ওয়ার্ডেনকে ২০ বছরের কঠোর কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পকসো (POCSO) আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) একাধিক কঠোর ধারায় তাকে এই সাজা শোনানো হয়।
কী ঘটেছিল সেই রাতে? পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করা ১২ বছরের এক নাবালিকা ছাত্রীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অত্যাচার চালাতো ওই ওয়ার্ডেন। কাউকে মুখ না খোলার জন্য তাকে লাগাতার প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হতো। ভয়ে এবং আতঙ্কে মুড়ে থাকা শিশুটি শেষ পর্যন্ত হস্টেল থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
২০২২ সালের ১২ নভেম্বর সকলের নজর এড়িয়ে হস্টেল থেকে পালিয়ে বাড়ি ফেরে ওই ছাত্রী। এর পরই পরিবারের কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে সে। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ ওই রাক্ষস ওয়ার্ডেনকে গ্রেপ্তার করে।
আইনি পদক্ষেপ ও সাজা: তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে ২০২৩ সালের ১৪ মার্চ পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। দীর্ঘ শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত অভিযুক্ত ওয়ার্ডেনকে আইপিসির ধারা ৩৭৬(৩) ও ৫০৬ এবং পকসো আইনের ৪ নম্বর ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে। পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও অতিরিক্ত ৬ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচার ব্যবস্থার এই রায়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে নির্যাতিতার পরিবার।