১০০ বছর ধরে চলবে তেলের রাজত্ব! আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার এই চাঞ্চল্যকর চুক্তিতে চোখ কপালে বিশ্বের

আমেরিকা এবং ভেনেজুয়েলার মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক তেল চুক্তি ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, আমেরিকা ভেনেজুয়েলার প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল সমৃদ্ধ ১৭টি অত্যন্ত কৌশলগত তেল ক্ষেত্রের ওপর বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম তেল চুক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
চুক্তির মূল বিষয় ও পটভূমি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং সাম্প্রতিক পালাবদলের পর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মার্কিন সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই বিশাল পরিমাণ তেল উত্তোলনের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে আমেরিকা। বর্তমান চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলা সরকারকে আগামী ১০০ বছর ধরে এই তেল ক্ষেত্রগুলির ব্যবহারের অধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যার ফলে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব এবং ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আসতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত ও আইনি দিকগুলি এখনও সম্পূর্ণ প্রকাশ না পাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
কার কী লাভ? অর্থনৈতিক সঙ্কটে জর্জরিত ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই চুক্তিকে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর এক মোক্ষম সুযোগ বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর দীর্ঘমেয়াদী বিদেশি নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক আইনের শাসন নিয়ে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। সব মিলিয়ে, তেল কূটনীতির এই নতুন সমীকরণ বিশ্ব বাজারে এক বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে চলেছে।